রাজশাহীতে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির একটি গাড়ি আটকে দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়িটি আটকে দেওয়া হয়। সেখান থেকে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়িতে বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের লেখা এবং তাদের ওপর রচিত বেশকিছু গ্রন্থও ছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বইগুলোর বিষয়ে আপত্তি তোলেন।
ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসব বই জনসম্মুখে প্রদর্শন ও বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করেছেন এবং বইগুলো পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন জানান, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশের জনগণই বিদায় করেছে। তার বা তাদের লেখা বই থাকতে পারে না।
মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লেমন জানান, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে; তারপরও এই লাইব্রেরিতে পাওয়া গেছে। দায়িত্ব অবহেলার কারণে তারা এই বইগুলো রেখে দিয়েছে। তারা নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাচ্ছে।
যেসব বই নিয়ে আপত্তি, সেগুলো পাঠকদের কাছে সরবরাহ বা পাঠের জন্য উন্মুক্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, রাজশাহীতে বইগুলো সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। এ কারণে বইগুলো গাড়িতে রাখা হয়েছিল।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















