এবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আজও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিরোধী দলগুলো। বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এর আগে বুধবার দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের প্রায় ৯০ জন নেতাকে আটক করে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে তাদের আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচন কমিশন বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নিয়ে কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করছে তারা। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আজ বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিকে আরও বড় করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা কয়েকটি বাসে করে বিক্ষোভস্থলের দিকে রওনা দেন। তবে পুলিশ তাদের পথ আটকে দিলে তারা সড়কে বসে স্লোগান দিতে থাকেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন, সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে মৃত, ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিতেই সংশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত বিষয়টি নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।