ঢাকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গত ৮ মাস দেশেই পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে আসছে ‘গ্রিনল্যান্ডের জনগণ রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিতে পারে’ একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও টাকা কোথা থেকে আসবে বলছে না: নাহিদ বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে নিবিড় নজর ভারতের, সামরিক যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা: সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে খুন, টাকা-স্বর্ণ লুট জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় এবি পার্টির সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন ফখরুল

অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে গুলি: হামলাকারীদের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬৮ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির একজন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় হায়দরাবাদের বাসিন্দা। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরম। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

 

তেলেঙ্গানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সাজিদ আকরম ১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। এরপর ভারতে তিনি মাত্র ছয়বার এসেছিলেন। সেসব সফরের উদ্দেশ্য ছিল মূলত পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত ও বয়স্ক বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করা। এমনকি বাবার মৃত্যুর সময়ও তিনি ভারতে আসেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার হানুক্কা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাজিদ আকরম ও তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরম ১৫ জনকে হত্যা এবং আরও বহু মানুষকে আহত করেছেন বলে সন্দেহ করছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। নাভিদ ঘটনাস্থলে মারা যাননি। তবে তার বাবার সঙ্গে তিনিও হামলায় জড়িত ছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

 

তেলেঙ্গানা পুলিশের ওই কর্মকর্তা বিবিসি তেলুগুকে বলেন, সাজিদ আকরমের উগ্রপন্থি মানসিকতা বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার পরিবার কোনও তথ্য জানে না। তার উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার পেছনে ভারত বা তেলেঙ্গানার কোনও স্থানীয় প্রভাবের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

 

পুলিশের ভাষ্যমতে, ভারতে সাজিদ আকরমের কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন এবং কাজের সন্ধানে অস্ট্রেলিয়ায় যান। সেখানে তিনি ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে বিয়ে করেন। সাজিদ আকরম ভারতীয় পাসপোর্টধারী ছিলেন। তবে তার সন্তানরা অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করায় তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

হামলার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে সাজিদ ও নাভিদ ফিলিপাইনে অবস্থান করেছিলেন, এমন তথ্যও তদন্ত করছে পুলিশ। ফিলিপাইনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ১ নভেম্বর সেখানে প্রবেশ করেন এবং ২৮ নভেম্বর দেশটি ছাড়েন। সাজিদ ভারতীয় পাসপোর্টে ভ্রমণ করলেও তার ছেলে অস্ট্রেলীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি) গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ফিলিপাইনে গিয়ে তারা সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে এই তথ্য এখনও নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

এ ঘটনার তদন্ত নিয়ে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া থেরেসা লাজারো এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং পারস্পরিকভাবে সব অগ্রগতি অবহিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

 

এদিকে এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভিদ আকরম আগে সিডনিভিত্তিক একটি আইএস-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সেলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। আইএস ইউরোপ ও আমেরিকায় একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের প্যারিস হামলাও রয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, অন্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে নাভিদ আকরম ২০১৯ সালে প্রথম কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন। তবে সে সময় মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, তার কাছ থেকে সহিংসতার কোনও তাৎক্ষণিক বা চলমান হুমকির ইঙ্গিত নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গত ৮ মাস দেশেই পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে

অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে গুলি: হামলাকারীদের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত

আপডেট সময় ০১:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির একজন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় হায়দরাবাদের বাসিন্দা। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরম। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

 

তেলেঙ্গানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সাজিদ আকরম ১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। এরপর ভারতে তিনি মাত্র ছয়বার এসেছিলেন। সেসব সফরের উদ্দেশ্য ছিল মূলত পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত ও বয়স্ক বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করা। এমনকি বাবার মৃত্যুর সময়ও তিনি ভারতে আসেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার হানুক্কা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাজিদ আকরম ও তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরম ১৫ জনকে হত্যা এবং আরও বহু মানুষকে আহত করেছেন বলে সন্দেহ করছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। নাভিদ ঘটনাস্থলে মারা যাননি। তবে তার বাবার সঙ্গে তিনিও হামলায় জড়িত ছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

 

তেলেঙ্গানা পুলিশের ওই কর্মকর্তা বিবিসি তেলুগুকে বলেন, সাজিদ আকরমের উগ্রপন্থি মানসিকতা বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার পরিবার কোনও তথ্য জানে না। তার উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার পেছনে ভারত বা তেলেঙ্গানার কোনও স্থানীয় প্রভাবের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

 

পুলিশের ভাষ্যমতে, ভারতে সাজিদ আকরমের কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন এবং কাজের সন্ধানে অস্ট্রেলিয়ায় যান। সেখানে তিনি ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে বিয়ে করেন। সাজিদ আকরম ভারতীয় পাসপোর্টধারী ছিলেন। তবে তার সন্তানরা অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করায় তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

হামলার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে সাজিদ ও নাভিদ ফিলিপাইনে অবস্থান করেছিলেন, এমন তথ্যও তদন্ত করছে পুলিশ। ফিলিপাইনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ১ নভেম্বর সেখানে প্রবেশ করেন এবং ২৮ নভেম্বর দেশটি ছাড়েন। সাজিদ ভারতীয় পাসপোর্টে ভ্রমণ করলেও তার ছেলে অস্ট্রেলীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি) গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ফিলিপাইনে গিয়ে তারা সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে এই তথ্য এখনও নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

এ ঘটনার তদন্ত নিয়ে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া থেরেসা লাজারো এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং পারস্পরিকভাবে সব অগ্রগতি অবহিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

 

এদিকে এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভিদ আকরম আগে সিডনিভিত্তিক একটি আইএস-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সেলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। আইএস ইউরোপ ও আমেরিকায় একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের প্যারিস হামলাও রয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, অন্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে নাভিদ আকরম ২০১৯ সালে প্রথম কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন। তবে সে সময় মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, তার কাছ থেকে সহিংসতার কোনও তাৎক্ষণিক বা চলমান হুমকির ইঙ্গিত নেই।