ঢাকা , শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পলাশসহ চারজনকে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক দিনের শুরুতে যে দোয়া পড়তেন নবিজি (সা.) ফিফা শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প যে আমলে দারিদ্র্য দূর হয় রাজনীতিতে ইসলাম মানে শুধু নাম নয়, কাজের মধ্যেও থাকতে হবে” বিএনপির এ্যানি নির্বাচনে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বিএনপি: বড় বিপর্যয় না হলে অংশগ্রহণের ঘোষণা রিজভীর বাংলাদেশে পাথর মেরে মানুষ হত্যার রাজনীতি আর চলবে না: জাহিদুল ইসলাম ‘এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ ও ছাত্রশক্তির শ্যামলী সুলতানা জেদনীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন’ বিএনপির ২৭২ মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ,১২ দলীয় জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার “কুরআনের বাংলাদেশ গড়তেই আমাদের লড়াই,চট্টগ্রামে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান”

পিআর বুঝতে মানুষের কষ্ট হয়, মানুষ বোঝে ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট: ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে দাঁড়াতে পারছিল না। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার সুযোগ করে দেন। পরে তারা আমাদের সঙ্গেও কাজ করেছে। আমরাও তাদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে গত ১০ বছর আমরা তাদের ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পরাজিত করার জন্য দৃশ্যমান কোনো কাজ করতে দেখিনি।’

 

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে আজ শনিবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ এই সভার আয়োজন করে।

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলটি সমানে চিৎকার করছে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন–আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) দিতে হবে, পিআর না হলে নির্বাচন হবে না। অনেক হুংকার–টুংকার হয়েছে। এখন আবার তাদের সুর নরম হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনের জন্য চতুর্দিকে দৌড়ঝাঁপ চলছে। মানুষকে বোকা বানিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করা আমার মনে হয় না ইসলামে কোথাও বলেছে।’

 

আলোচনা সভায় পিআর পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পিআর বুঝতে মানুষের কষ্ট হয়। মানুষ বোঝে ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট। একজন ব্যক্তি দাঁড়াবে, তাঁর মার্কা থাকবে—মার্কায় আমি ভোট দেব। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচন হবে এবং সেটা ফেব্রুয়ারিতে হবে। এই নির্বাচনের জন্য তার আগে সংস্কার কমিশন করা হয়েছিল। সংস্কার কমিশন করতে খুব বড় বড় পণ্ডিতরা দেশে এসেছে। তারা ৯ মাস ধরে আলাপ-আলোচনা করেছে, অনেক সংস্কারের কথা বলেছে। সবশেষে বলেছে পিআরের কথা। ওটা আমরা ঠিকমতো বুঝি না। দেশের মানুষ অনেকেই বুঝতে পারে না। পিআরটা কী আসলে? ইংরেজি শব্দ হচ্ছে, প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন। আমার ঠিকমতো বুঝতে কষ্ট হয়। বাংলাটা আরও কঠিন।’

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময় সেই আদিকাল থেকে দেখে আসছি নির্বাচন। এখন আপনি পরিবর্তন করবেন, তার জন্য আবার গণভোট করবেন। গণভোটে থাকবে—‘হ্যাঁ’, ‘না’। এখন গণভোটে চারটা প্রশ্ন থাকবে। চারটা প্রশ্ন একটা গণভোটের ব্যালটে, এটা কেউ এখন পর্যন্ত বুঝতেই পারছে না। দেখবেন, শেষ দিন পর্যন্তও কেউ বুঝতে পারবে না।’

 

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের জন্য বিএনপি ২০১৬ সালে ভিশন-৩০ দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম ভিশন-৩০ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কীভাবে দেশ চলবে, সে সম্পর্কে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রস্তাব তখনই তিনি দিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদের বেশি হওয়া উচিত না, সেটাও তিনি দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে আমরা ২৭ দফা দিয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলাম। ওখানে তো সংস্কারের সবকিছু বলা আছে। সুতরাং আমরা (বিএনপি) সংস্কার চাই।’

 

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফাইনালি যখন সেই সুপারিশগুলো এল, তার মধ্যে অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলোতে আমরা সই করি নাই। কমিশন (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) সঠিক কাজটা করে নাই। দলগুলো যেসব প্রস্তাবে একমত হয়েছে, সেগুলো দিলে সবচেয়ে ভালো হতো।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পলাশসহ চারজনকে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক

পিআর বুঝতে মানুষের কষ্ট হয়, মানুষ বোঝে ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট: ফখরুল

আপডেট সময় ০১:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে দাঁড়াতে পারছিল না। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার সুযোগ করে দেন। পরে তারা আমাদের সঙ্গেও কাজ করেছে। আমরাও তাদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে গত ১০ বছর আমরা তাদের ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পরাজিত করার জন্য দৃশ্যমান কোনো কাজ করতে দেখিনি।’

 

রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে আজ শনিবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ এই সভার আয়োজন করে।

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলটি সমানে চিৎকার করছে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন–আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) দিতে হবে, পিআর না হলে নির্বাচন হবে না। অনেক হুংকার–টুংকার হয়েছে। এখন আবার তাদের সুর নরম হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনের জন্য চতুর্দিকে দৌড়ঝাঁপ চলছে। মানুষকে বোকা বানিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করা আমার মনে হয় না ইসলামে কোথাও বলেছে।’

 

আলোচনা সভায় পিআর পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পিআর বুঝতে মানুষের কষ্ট হয়। মানুষ বোঝে ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট। একজন ব্যক্তি দাঁড়াবে, তাঁর মার্কা থাকবে—মার্কায় আমি ভোট দেব। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচন হবে এবং সেটা ফেব্রুয়ারিতে হবে। এই নির্বাচনের জন্য তার আগে সংস্কার কমিশন করা হয়েছিল। সংস্কার কমিশন করতে খুব বড় বড় পণ্ডিতরা দেশে এসেছে। তারা ৯ মাস ধরে আলাপ-আলোচনা করেছে, অনেক সংস্কারের কথা বলেছে। সবশেষে বলেছে পিআরের কথা। ওটা আমরা ঠিকমতো বুঝি না। দেশের মানুষ অনেকেই বুঝতে পারে না। পিআরটা কী আসলে? ইংরেজি শব্দ হচ্ছে, প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন। আমার ঠিকমতো বুঝতে কষ্ট হয়। বাংলাটা আরও কঠিন।’

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময় সেই আদিকাল থেকে দেখে আসছি নির্বাচন। এখন আপনি পরিবর্তন করবেন, তার জন্য আবার গণভোট করবেন। গণভোটে থাকবে—‘হ্যাঁ’, ‘না’। এখন গণভোটে চারটা প্রশ্ন থাকবে। চারটা প্রশ্ন একটা গণভোটের ব্যালটে, এটা কেউ এখন পর্যন্ত বুঝতেই পারছে না। দেখবেন, শেষ দিন পর্যন্তও কেউ বুঝতে পারবে না।’

 

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের জন্য বিএনপি ২০১৬ সালে ভিশন-৩০ দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম ভিশন-৩০ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কীভাবে দেশ চলবে, সে সম্পর্কে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রস্তাব তখনই তিনি দিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদের বেশি হওয়া উচিত না, সেটাও তিনি দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে আমরা ২৭ দফা দিয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলাম। ওখানে তো সংস্কারের সবকিছু বলা আছে। সুতরাং আমরা (বিএনপি) সংস্কার চাই।’

 

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফাইনালি যখন সেই সুপারিশগুলো এল, তার মধ্যে অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলোতে আমরা সই করি নাই। কমিশন (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) সঠিক কাজটা করে নাই। দলগুলো যেসব প্রস্তাবে একমত হয়েছে, সেগুলো দিলে সবচেয়ে ভালো হতো।’