ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্যসভার সদস্য হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল সম্পর্কে কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, অতীতে দলটির ভোটের হার ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ছিল না এবং অনিয়ম ছাড়া তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই।

এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অদূরদর্শী মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তভাবেই তাদের। এ বিষয়ে কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের মতামত দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের অধিকার, সুশাসন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রশ্নে বরাবরই আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। পরিশেষে, জামায়াতের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, ভারতের দায়িত্বশীল মহল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের

আপডেট সময় ১২:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্যসভার সদস্য হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল সম্পর্কে কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, অতীতে দলটির ভোটের হার ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ছিল না এবং অনিয়ম ছাড়া তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই।

এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অদূরদর্শী মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তভাবেই তাদের। এ বিষয়ে কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের মতামত দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের অধিকার, সুশাসন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রশ্নে বরাবরই আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। পরিশেষে, জামায়াতের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, ভারতের দায়িত্বশীল মহল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবে।