আমাদের সমাজের রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। আমরা সমাজ থেকে দুর্নীতি কমাতে পারিনি সত্যি কথা, কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। গতকাল বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী একথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জেলাগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার পর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদায়নে লটারি করা হয়েছে। এসপি পদে পদায়নে প্রথমে মেধাবী কর্মকর্তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে, মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েননি। কে কোন জেলায় যাবেন তা নির্ধারণে লটারি করা হয়েছে।
এসপি নিয়োগে লটারির বিষয় জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ, নিউজ এসেছে, এইটা যেইভাবে লটারি করার ওইভাবেই লটারি করে দিয়েছি। এটার ক্ষেত্রে আমরা তিনটা ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করছি; এ-ক্যাটাগরি, বি-ক্যাটাগরি, সি-ক্যাটাগরি। এটা জেলার আয়তনের ভিত্তিতে করা হয়নি, আমরা করেছি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ওই জেলাগুলো নির্ধারণ করে, তারপর আমরা ঠিক করেছি এসপিদের কারে কারে দেব। আমাদের টোটাল এসপি ছিল মনে হয় ৬৪ জেলায়। ৬৪ জেলা থেকে আমরা ১৮ জনকে উঠিয়ে এনেছি। ১৮ জনের জায়গায় আবার আমরা নতুন কর্মকর্তা দিয়েছি। লটারি করে যারটা যেই জেলায়, যার কপাল আছে ওই জেলায় পড়ছে। ওসিদের পদায়নও কি লটারির মাধ্যমে হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ইনশাআল্লাহ।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রথমে আমরা মেধাবী এসপিদের বেছে নিয়েছি। মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েনি। পরে মেধাবীদের মধ্যে কে কোন জেলায় যাবে সেটা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যদি কোনো ধরনের দুর্নীতি থাকে, আপনারা অবশ্যই প্রকাশ করবেন। আমার আত্মীয়-স্বজন বা আমার বন্ধুবান্ধব যদি কোথাও জড়িত থাকে, অবশ্যই প্রকাশ করবেন। আমার ক্ষেত্রে যদি কোনো দুর্নীতি থাকে, অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন। তা না হলে এই দেশে কিন্তু দুর্নীতি কমবে না। সার কারখানার জন্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের দামের সাথে সারের দামের কোনো সম্পর্ক নাই। বিভিন্ন জায়গায় সারের দাম বাড়ায়। এজন্য আমি অলরেডি ইনস্ট্রাকশন দিছি। আমাদের অফিসাররা এক্ষেত্রে পুরো নজরদারি করবে। যে অফিসার নজরদারি করতে ফেল করবে তার বিরুদ্ধে আমরা একশন নেব। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্যে সার পায়, এটার ব্যবস্থা আমরা করব। কোনো অবস্থায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক পয়সাও যেন বেশি নিতে না পারে।
সারের দাম আগে যা ছিল, এখনও তা আছে এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। আমরা অন্তত যতদিন আছি। সারের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। বাজারে শাকসবজির দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবজির দাম এখন নিচের দিকে। সবজির ফলনও ভালো হয়েছে। সবজির দামও আমরা মনে করি একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিক্রুটমেন্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রিক্রুটমেন্ট হচ্ছে। কোনো রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতির গন্ধ পেলে আপনারা জানাবেন। দুর্নীতির সঙ্গে যদি কেউ জড়িত হয় তাহলে কিন্তু ছাড় দেওয়া হবে না। টেন্ডারের ক্ষেত্রেও যদি কোনো ধরনের দুর্নীতি থাকে, আপনারা অবশ্যই প্রকাশ করবেন। তা না হলে এই দেশে কিন্তু দুর্নীতি কমবে না। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি।
সার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ আছে। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ বিভিন্ন জায়গায় সারের দাম বাড়ায়। এজন্য আমি অলরেডি ইন্সট্রাকশন দিয়েছি। আমাদের অফিসাররা এটার ক্ষেত্রে পুরো নজরদারি করবে। যে অফিসার নজরদারি করতে ব্যর্থ হবে তার বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন (ব্যবস্থা) নেব। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্যে সার পায়, এটার আমরা ব্যবস্থা করব। কোনো অবস্থায় আমাদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক পয়সাও যেন বেশি নিতে না পারে। সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা নীতিমালা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সারের ডিলারদের ক্ষেত্রে যেসব জায়গায় খালি আছে, ওইসব জায়গাগুলো আপাতত নিয়োগ দেব। পুরোনো যারা আছে তারা করতে থাকবে যদি তারা ওরকম কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বা অবৈধভাবে কোনো কিছু না করে থাকে। তবে তা না হলে কারো সারের ডিলারশিপ আমরা বাতিল করতেছি না বাট যেসব জায়গায় খালি আছে ওইগুলো আমরা দিয়ে দেব।

ডেস্ক রিপোর্ট 























