ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ম্যারাডোনার ‘শতাব্দীর সেরা গোলের’ ৪০ বছর আজ, স্মৃতিকাতর কোচ স্কালোনি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতার ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’র নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জী সড়ক’ নামকরণ করলো বিজেপি সরকার সৌদির পতাকায় ‘কালেমা তাইয়েবা’ থাকায় ম্যাচের আগে মাটিতে বিছানোর বদলে হাতে ধরে প্রদর্শন করাচ্ছে ফিফা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সফল হলে নেতানিয়াহুর ‘রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ’: পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ আগামীকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, মাঠে থাকবে ডিএমপির ১৮ হাজার পুলিশ ‘অভিমানী’ মাজারের সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ-অগ্নিসংযোগ, জামায়াত প্রার্থীসহ আহত অর্ধশত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এই সহিংস সংঘর্ষে পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ দুই দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদিন আগে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা ও স্থানীয় জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী এলাকায় গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জগির মোড়ে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলেকে দেখে জামায়াতের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে বিএনপি কর্মীরাও পাল্টা হামলায় যুক্ত হয়। কিছুক্ষণ পর পাশের চর আলহাজ্ব মোড়ে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণ, তালেব মণ্ডলের গাড়ি ভাঙচুর এবং প্রায় ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, কৃষক দলের নেতা মক্কেল মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুল আলিম বাঁধন এবং বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতরা পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল অভিযোগ করেন, “আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা হামলা চালায়। আমার গাড়িসহ মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।”

তবে সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার দাবি করেন, “জামায়াতের কোনো পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না। তারা অস্ত্র নিয়ে মক্কেল মৃধার ওপর হামলা করেছে। তালেব মণ্ডল নিজেই গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে সমর্থকদের দিয়েছেন।”

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।”

সহিংসতাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যারাডোনার ‘শতাব্দীর সেরা গোলের’ ৪০ বছর আজ, স্মৃতিকাতর কোচ স্কালোনি

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ-অগ্নিসংযোগ, জামায়াত প্রার্থীসহ আহত অর্ধশত

আপডেট সময় ১০:০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এই সহিংস সংঘর্ষে পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ দুই দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদিন আগে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা ও স্থানীয় জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী এলাকায় গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জগির মোড়ে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলেকে দেখে জামায়াতের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে বিএনপি কর্মীরাও পাল্টা হামলায় যুক্ত হয়। কিছুক্ষণ পর পাশের চর আলহাজ্ব মোড়ে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণ, তালেব মণ্ডলের গাড়ি ভাঙচুর এবং প্রায় ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, কৃষক দলের নেতা মক্কেল মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুল আলিম বাঁধন এবং বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতরা পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল অভিযোগ করেন, “আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা হামলা চালায়। আমার গাড়িসহ মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।”

তবে সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার দাবি করেন, “জামায়াতের কোনো পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না। তারা অস্ত্র নিয়ে মক্কেল মৃধার ওপর হামলা করেছে। তালেব মণ্ডল নিজেই গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে সমর্থকদের দিয়েছেন।”

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।”

সহিংসতাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।