একদিকে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ‘শাসন পরিবর্তন’ বা সরকার হটাতে মরিয়া, ঠিক তখনই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ কেঁপে উঠল ট্রাম্প বিরোধী স্লোগানে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আয়োজিত ‘নো কিংস’ র্যালিতে অংশ নিয়ে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক দাবি তুলেছেন— অন্য দেশে হস্তক্ষেপের আগে পরিবর্তন দরকার খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরেই। তাদের স্পষ্ট বার্তা: “শাসন পরিবর্তন শুরু হোক নিজের দেশ থেকেই।”
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল মিনেসোটা। সেখানে হাজার হাজার মানুষ কাধে কাঁধ মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এই আয়োজনে যোগ দিয়ে কিংবদন্তি রক তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন বলেন, “এই প্রতিক্রিয়াশীল দুঃস্বপ্ন এবং আমেরিকান শহরগুলোতে চালানো এই আগ্রাসন আমরা মেনে নেব না। আপনাদের এই লড়াই প্রমাণ করে এটি এখনো সেই স্বাধীন আমেরিকাই আছে।”
ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল থেকে ন্যাশনাল মল পর্যন্ত মিছিলে বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে লেখা ছিল— “মুকুট নামিয়ে রাখো, ভাঁড়”। আয়োজকদের দাবি, পূর্ববর্তী র্যালিগুলোতে ৭০ লক্ষ পর্যন্ত মানুষ অংশ নিলেও এবার সেই সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৩,১০০টিরও বেশি ইভেন্ট নিবন্ধিত হয়েছে। বিক্ষোভের সাথে সংহতি জানিয়ে প্রখ্যাত অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো এক ভিডিও বার্তায় মিনেসোটাবাসীকে অভিনন্দন জানান। আইসিই কর্মকর্তাদের শহর থেকে বিতাড়িত করায় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিক্ষোভের এই তালিকায় আরও ছিলেন গায়িকা জোয়ান বায়েজ, অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং একঝাঁক অধিকারকর্মী, শ্রমিক নেতা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি।
বিক্ষোভকারীদের দীর্ঘ অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উস্কানি, ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার খর্ব করা এবং অভিবাসীদের ওপর অমানবিক দমন–পীড়ন। ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে একটি বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল— “আমাদের কাছে বাঁশি ছিল, ওদের কাছে বন্দুক। বিপ্লব শুরু হয় মিনিয়াপলিস থেকে।” আমেরিকান ফেডারেশন অফ টিচার্সের প্রেসিডেন্ট র্যান্ডি ওয়েইনগার্টেন বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো না শোনার ভান করতে পারেন, কিন্তু রাজপথে নামা এই কোটি কোটি মানুষকে তিনি কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারবেন না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বদলে ঘরোয়া সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এই গণদাবি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 















