জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমি (নায়েম)। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ ও কারিগরি) শিক্ষা পেশায় নতুন যোগদানকারী কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া এখানে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটিতে কোটি কোটি টাকা খরচে অস্বচ্ছতার প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নায়েমে মহাপরিচালক ও পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা সম্পন্ন, নির্লোভ, দক্ষ এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নায়েমে ৫টি হোস্টেল রয়েছে। এগুলো হলো, শহীদ বুদ্ধিজীবী, শহীদ জননী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, অমর একুশে ও সোনার বাংলা হোস্টেল। এসব হোস্টেলে আসন রয়েছে ৫৫২টি। গত ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এসব হোস্টেলে বিভিন্ন কোর্স বাবদ ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা আয় এবং ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। তবে বাস্তবে এসব ব্যয়ের কোনো স্টক রেজিস্ট্রার বা বিল ভাউচার প্রদর্শন করা হয়নি। এমনকি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ট্যাক্স দেওয়ারও কোনো প্রমাণ পায়নি ডিআইএর অডিট টিম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিট প্রতিবেদন বলছে, নায়েমে প্রকৃত আয় যেমন প্রদর্শন করা হয়নি, ব্যয়ও স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়নি। হোস্টেল খাত থেকে বিগত ৫ বছরের ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা রাজস্বখাতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয়করণ করা কলেজ শিক্ষকদের ৪৫ দিনব্যাপী বেসিক ট্রেনিং কোর্স হিসেবে ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সের আয়োজন করা হয় এখানে। নিরীক্ষাকালীন সময় পর্যন্ত মোট ৪০টি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে নায়েমে। পঞ্চম ইনডাকশন ট্রেনিংয়ে নিরীক্ষাকালে দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১৮ জন কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রকার সম্মানী/মজুরি প্রদান করা হলেও এই ১৮ জনের কাউকেই নায়েমের দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মীদের তালিকায় পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া অফিস অ্যাটাচমেন্টে ৪০ জন ও ৩ কোর্স পরিচালকের জন্য একদিনেই ১২টি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। আর অফিস অ্যাটাচমেন্টের জন্য বরাদ্দ টাকা পুরোটাই (৯৬ হাজার টাকা) গাড়ি ভাড়া খাতে দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন ইনডাকশন ট্রেনিংয়েও গাড়ি ভাড়া অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে।
নিরীক্ষায় অস্বাভাবিকসংখ্যক যানবাহন ও সহায়ক জনবল ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র ও গ্রহণপত্রের ঘাটতি, পুনরাবৃত্ত সামগ্রী ক্রয় এবং যানবাহন ও জ্বালানি খাতে একই ধরনের ব্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
লোভী কর্মকর্তা কর্মচারীদের কারণে মহাপরিচালক (ডিজি) স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন না বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসাব শাখায় শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআএ) পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা পরিদর্শন প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
সূত্র: এশিয়া পোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট 


















