ঢাকা , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল: ওমান সৌদি আরব যুদ্ধে জড়ালে ব্যবহার হবে পাকিস্তানের পরমাণু! ইরানে আগ্রাসনের প্রভাবে ১০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হতে পারে মার্কিন অর্থনীতি বিবেকবান মার্কিনিরা এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করবেন, বিশ্বাস ইরানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় জামায়াত আমির চীনের উপহারকে যৌথ উদ্যোগ বলে বিতরণ, জামায়াতের বক্তব্যে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের ৫০ গ্রামে ঈদ উদযাপন কাল ইরান আমাদের যুদ্ধ নয়, ট্রাম্পকে জানালো ইউরোপ বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন সঠিক নয়: দাবি সড়ক প্রতিমন্ত্রীর আজ চাঁদপুরের এক গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

মৃত্যুভয় আমার চলে গেছে, আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না: এজলাসে আনিস আলমগীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

 

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রিমান্ড শুনানিকালে আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আনিস আলমগীর এক নাটকীয় ও বিস্ফোরক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি যুদ্ধ কাভার করেছি। সেখানে তালেবানরা আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখন থেকেই মৃত্যুভয় আমার চলে গেছে। আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না।’

নিজের সাংবাদিকতার অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। বেগম খালেদা জিয়ার সময় করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও করেছি, ড. ইউনূসের আমলেও করব। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদেরও প্রশ্ন করব। যারা আমাকে নতজানু করতে বা সরকারের গোলাম বানাতে চায়, সমস্যা তাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন ৩২ নম্বর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়, তখনই বলেছি—এই প্রতিহিংসা চলতেই থাকবে।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জুলাই মাসেই তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।

মামলার অন্য আসামিদের প্রসঙ্গে আনিস আলমগীর আদালতকে জানান, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছাড়া বাকিদের সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি। শাওনের সঙ্গেও কয়েক বছর আগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস যদি সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাতে চান, তিনি বানাতে পারেন।’ এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে আবার বক্তব্য শুরু করে তিনি তার গ্রেপ্তারের পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন।

তিনি দেশের বাইরে অবস্থানরত দুই ইউটিউবারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা দিনের পর দিন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। ‘আমি একমাত্র বলেছি, এভাবে চললে নির্বাচন পণ্ড হয়ে যাবে। আমি কখনোই বলিনি নির্বাচন চাই না—আমি সব সময় বলেছি, নির্বাচন দরকার,’ বলেন তিনি।

আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন, ওই দুই ইউটিউবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা লিখেছেন এবং পরে একটি রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করে ড. ইউনূসের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে ডিবি হেফাজতে থাকা আনিস আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল: ওমান

মৃত্যুভয় আমার চলে গেছে, আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না: এজলাসে আনিস আলমগীর

আপডেট সময় ০৯:০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রিমান্ড শুনানিকালে আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আনিস আলমগীর এক নাটকীয় ও বিস্ফোরক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাংবাদিক। আমি যুদ্ধ কাভার করেছি। সেখানে তালেবানরা আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখন থেকেই মৃত্যুভয় আমার চলে গেছে। আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না।’

নিজের সাংবাদিকতার অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। বেগম খালেদা জিয়ার সময় করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও করেছি, ড. ইউনূসের আমলেও করব। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদেরও প্রশ্ন করব। যারা আমাকে নতজানু করতে বা সরকারের গোলাম বানাতে চায়, সমস্যা তাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন ৩২ নম্বর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়, তখনই বলেছি—এই প্রতিহিংসা চলতেই থাকবে।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জুলাই মাসেই তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।

মামলার অন্য আসামিদের প্রসঙ্গে আনিস আলমগীর আদালতকে জানান, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছাড়া বাকিদের সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি। শাওনের সঙ্গেও কয়েক বছর আগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস যদি সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাতে চান, তিনি বানাতে পারেন।’ এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে দেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে আবার বক্তব্য শুরু করে তিনি তার গ্রেপ্তারের পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন।

তিনি দেশের বাইরে অবস্থানরত দুই ইউটিউবারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা দিনের পর দিন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। ‘আমি একমাত্র বলেছি, এভাবে চললে নির্বাচন পণ্ড হয়ে যাবে। আমি কখনোই বলিনি নির্বাচন চাই না—আমি সব সময় বলেছি, নির্বাচন দরকার,’ বলেন তিনি।

আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন, ওই দুই ইউটিউবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা লিখেছেন এবং পরে একটি রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করে ড. ইউনূসের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে ডিবি হেফাজতে থাকা আনিস আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।