ঢাকা , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ মানহানির মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন এমপি আমির হামজা ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও ইসরায়েলকে জ্বালানি দিয়ে সাহায্য করছে ব্রাজিল প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে, পুলিশের সামনেই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা-মা প্রাথমিক শিক্ষকদের এখন থেকে বদলি করবে স্থানীয় প্রশাসন: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির সূচকে বাংলাদেশ চতুর্থ, তালিকায় কততম ভারত ও পাকিস্তান? ডামি নির্বাচনের প্রার্থী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারক, সারওয়াত শুক্লাকে ঘিরে প্রশ্ন

বংশপরিচয় নয়, দলের জনসমর্থনই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে: তারেক রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টাইম ম্যাগাজিন’-কে এক একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পারিবারিক উত্তরাধিকারের কারণে নয়, বরং দলীয় নেতা-কর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই তিনি আজ বাংলাদেশে। গত ১৮ মাস আগে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টাইম ম্যাগাজিনের মতে, এই নির্বাচনে তারেক রহমানই এখন এগিয়ে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমার বাবার বা মায়ের ছেলে বলে এখানে আসিনি। আমার দলের সমর্থকরাই আজ আমার এখানে থাকার মূল কারণ।” গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা ফেরার পর লাখো মানুষের ভালোবাসা ও সংবর্ধনা সিক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এক দশকেরও বেশি সময় স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বর্তমানে তিনি নিজেকে দেশের রাজনৈতিক অভিজাত এবং তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে এক সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরছেন। টাইম ম্যাগাজিন তাকে সমর্থকদের কাছে একজন ‘নিগৃহীত ত্রাণকর্তা’ এবং সমালোচকদের কাছে ‘ডার্ক প্রিন্স’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অতীতের দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, “তারা কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।” উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইততমধ্যে তার আগের সাজাগুলো বাতিল করেছে। আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

সাক্ষাৎকারে টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘নম্রভাষী এবং নীতি-চালিত’ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারেক রহমান তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছ-১২ হাজার মাইল খাল খনন, প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় সবুজ এলাকা বৃদ্ধি এবং কারিগরি কলেজ ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন। তিনি বলেন, “আমি যা পরিকল্পনা করেছি তার ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।” বিএনপির গত শাসনামলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এমনকি একটি ফাঁস হওয়া মার্কিন বার্তায় তাকে ‘ক্লেপটোক্র্যাটিক সরকার ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। এসব বিতর্ক নিয়ে তারেক রহমান জানান, বর্তমানে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ২০ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের রফতানি-নির্ভর অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের স্বার্থ দেখবেন, আমি দেখব আমার দেশের স্বার্থ। তবে আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।” তিনি বোয়িং ক্রয় এবং জ্বালানি প্রকল্পের মতো বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার পর কী মিস করছেন—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলেন, “আমার স্বাধীনতা।” নিজের মিশন সম্পর্কে স্পাইডার-ম্যানের সেই বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “বিরাট ক্ষমতার সঙ্গে বিরাট দায়িত্বও আসে। আমি এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার

বংশপরিচয় নয়, দলের জনসমর্থনই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে: তারেক রহমান

আপডেট সময় ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টাইম ম্যাগাজিন’-কে এক একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পারিবারিক উত্তরাধিকারের কারণে নয়, বরং দলীয় নেতা-কর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই তিনি আজ বাংলাদেশে। গত ১৮ মাস আগে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টাইম ম্যাগাজিনের মতে, এই নির্বাচনে তারেক রহমানই এখন এগিয়ে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমার বাবার বা মায়ের ছেলে বলে এখানে আসিনি। আমার দলের সমর্থকরাই আজ আমার এখানে থাকার মূল কারণ।” গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা ফেরার পর লাখো মানুষের ভালোবাসা ও সংবর্ধনা সিক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এক দশকেরও বেশি সময় স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বর্তমানে তিনি নিজেকে দেশের রাজনৈতিক অভিজাত এবং তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে এক সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরছেন। টাইম ম্যাগাজিন তাকে সমর্থকদের কাছে একজন ‘নিগৃহীত ত্রাণকর্তা’ এবং সমালোচকদের কাছে ‘ডার্ক প্রিন্স’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অতীতের দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, “তারা কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।” উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইততমধ্যে তার আগের সাজাগুলো বাতিল করেছে। আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

সাক্ষাৎকারে টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘নম্রভাষী এবং নীতি-চালিত’ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারেক রহমান তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছ-১২ হাজার মাইল খাল খনন, প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় সবুজ এলাকা বৃদ্ধি এবং কারিগরি কলেজ ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন। তিনি বলেন, “আমি যা পরিকল্পনা করেছি তার ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।” বিএনপির গত শাসনামলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এমনকি একটি ফাঁস হওয়া মার্কিন বার্তায় তাকে ‘ক্লেপটোক্র্যাটিক সরকার ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। এসব বিতর্ক নিয়ে তারেক রহমান জানান, বর্তমানে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ২০ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের রফতানি-নির্ভর অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের স্বার্থ দেখবেন, আমি দেখব আমার দেশের স্বার্থ। তবে আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।” তিনি বোয়িং ক্রয় এবং জ্বালানি প্রকল্পের মতো বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার পর কী মিস করছেন—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলেন, “আমার স্বাধীনতা।” নিজের মিশন সম্পর্কে স্পাইডার-ম্যানের সেই বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “বিরাট ক্ষমতার সঙ্গে বিরাট দায়িত্বও আসে। আমি এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।”