ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাসপাতালের বাথরুমে মিলল সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্ত নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক নবম পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি চায় সিরিয়া বিদ্যালয়ে ‘আজ কেন মন উদাসী’ গানে শিক্ষিকার রিলস, তদন্তে কমিটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাব দিতে হবে: আরাগচি সামর্থ্যের অভাবে রোনালদোর নাম-জার্সি নম্বর হাতে লিখেছিলেন দিয়োমান্দে, তিনিই যাচ্ছেন রিয়ালে জাতিসংঘে হঠাৎ মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স, তীব্র বাকযুদ্ধ মামদানির আপত্তি উপেক্ষা করে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর এবার পালটা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলো ইরান

ককরোচ’দের আন্দোলনকে সমর্থন করায় ভারতে গ্রেপ্তার ৩ মুসলিম তরুণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলায় ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনার অভিযোগে তিন মুসলিম তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এখনো কোনো বিক্ষোভ মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত না হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন তরুণ হলেন মনজুর রহমান (২৩), আশরাফুল ইসলাম (২১) এবং আবদুল কাশেম (২৩)। তাঁরা লখিমপুর জেলার লালুক থানার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, শিক্ষা খাতে অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে তাঁরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছিলেন। পরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে লালুক থানায় আবেদন করলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া মনজুর ও আশরাফুল এম.কম-এর শিক্ষার্থী এবং আবদুল কাশেম ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মনজুরের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অসাংবিধানিক কাজ করেনি, শুধু একটি প্রতিবাদের আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। আশরাফুলের বাবা আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, মুসলিম হওয়ায় তাঁদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর কাশেমের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ২২ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে পরদিন ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২)(বি), ৩৫৩(১) এবং ১৫২ ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে ১৫২ ধারাটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অভিযোগে ব্যবহৃত একটি কঠোর ধারা।
এদিকে, লালুক থানার পুলিশ অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লালুক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সীমান্ত পাঠক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালের বাথরুমে মিলল সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা

ককরোচ’দের আন্দোলনকে সমর্থন করায় ভারতে গ্রেপ্তার ৩ মুসলিম তরুণ

আপডেট সময় ০৯:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলায় ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনার অভিযোগে তিন মুসলিম তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এখনো কোনো বিক্ষোভ মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত না হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন তরুণ হলেন মনজুর রহমান (২৩), আশরাফুল ইসলাম (২১) এবং আবদুল কাশেম (২৩)। তাঁরা লখিমপুর জেলার লালুক থানার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, শিক্ষা খাতে অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে তাঁরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছিলেন। পরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে লালুক থানায় আবেদন করলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া মনজুর ও আশরাফুল এম.কম-এর শিক্ষার্থী এবং আবদুল কাশেম ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।
গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মনজুরের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অসাংবিধানিক কাজ করেনি, শুধু একটি প্রতিবাদের আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। আশরাফুলের বাবা আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, মুসলিম হওয়ায় তাঁদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর কাশেমের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ২২ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে পরদিন ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২)(বি), ৩৫৩(১) এবং ১৫২ ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে ১৫২ ধারাটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার অভিযোগে ব্যবহৃত একটি কঠোর ধারা।
এদিকে, লালুক থানার পুলিশ অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লালুক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সীমান্ত পাঠক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।