ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতিসংঘে কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বক্তব্য দিলেন যে মুসলিম নেতা জাতিসংঘে খলিলুরের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হলেন জাইমা রহমান বিএনপির প্রার্থীদের হারাতে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ সংগঠনের ঐক্য: প্রতিমন্ত্রী অমিত ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: মীর শাহে আলম সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সেই প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না: রিজভী রাজধানীর ফুটপাতে গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ‘৯ লাখ টাকায়’ রফাদফা! সৌদি আরবকে সাহায্য করলে মার্কিন স্বার্থে হামলা চালাতে দ্বিধা করব না: হুঁশিয়ারি হুতিদের আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান

রূপপুরের বিদ্যুৎ আসবে নভেম্বরে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯০১ বার পড়া হয়েছে

মাসের পর মাস পিছিয়ে অবশেষে আগামী নভেম্বরেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে কেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালভ বা পিওআরভি পরীক্ষার ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। এই ধাপ শেষ হলে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাদের হিসাবে, বি-টু ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইনে ৩০ শতাংশ স্টিম তৈরি করতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ লাগবে। সবকিছু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে মোট প্রায় নয় সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারে কেন্দ্রটি।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, আইডিয়াল প্রোগ্রাম অনুসরণ করা গেলে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

কীভাবে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ?

রূপপুরের বি-ওয়ান ধাপে ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বি-টু ধাপে ফিজিক্যাল স্টার্টআপের কার্যক্রম চলে। এরপর ফিউশন রিয়্যাকশনের মাধ্যমে উৎপন্ন হবে তাপশক্তি। সেই তাপশক্তি থেকে তৈরি হবে স্টিম। স্টিমের চাপে টারবাইন ঘুরবে এবং টারবাইনের মাধ্যমে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ।

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে

২০১৬ সালে রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। তবে এর সঙ্গে অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনের আশা, সব খরচ যুক্ত করেও রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে থাকবে।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের পর তৈরি হওয়া স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখনো বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর জন্য বাংলাদেশকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেন্ট ফুয়েলের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর প্রতিদিন তৈরি হওয়া ভারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, রূপপুর উৎপাদনে যাওয়ার আগেই ভারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সবশেষে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কারিগরি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে নভেম্বরেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বক্তব্য দিলেন যে মুসলিম নেতা

রূপপুরের বিদ্যুৎ আসবে নভেম্বরে

আপডেট সময় ১১:৩১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাসের পর মাস পিছিয়ে অবশেষে আগামী নভেম্বরেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে কেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালভ বা পিওআরভি পরীক্ষার ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। এই ধাপ শেষ হলে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাদের হিসাবে, বি-টু ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইনে ৩০ শতাংশ স্টিম তৈরি করতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ লাগবে। সবকিছু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে মোট প্রায় নয় সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারে কেন্দ্রটি।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, আইডিয়াল প্রোগ্রাম অনুসরণ করা গেলে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

কীভাবে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ?

রূপপুরের বি-ওয়ান ধাপে ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বি-টু ধাপে ফিজিক্যাল স্টার্টআপের কার্যক্রম চলে। এরপর ফিউশন রিয়্যাকশনের মাধ্যমে উৎপন্ন হবে তাপশক্তি। সেই তাপশক্তি থেকে তৈরি হবে স্টিম। স্টিমের চাপে টারবাইন ঘুরবে এবং টারবাইনের মাধ্যমে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ।

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে

২০১৬ সালে রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। তবে এর সঙ্গে অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনের আশা, সব খরচ যুক্ত করেও রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে থাকবে।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের পর তৈরি হওয়া স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখনো বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর জন্য বাংলাদেশকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেন্ট ফুয়েলের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর প্রতিদিন তৈরি হওয়া ভারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, রূপপুর উৎপাদনে যাওয়ার আগেই ভারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সবশেষে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কারিগরি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে নভেম্বরেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।