গত ৬ আগস্ট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। সংগৃহীত ছবি
ছয় দফা দাবিতে আজ শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও পথসভা করে রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে লংমার্চ। কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
জামায়াতের একাধিক নেতা জানান, লংমার্চের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে চান তারা। কর্মসূচিতে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের দাবির পাশাপাশি তুলে ধরা হবে জনজীবনের সংকট। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার। তাদের ধারণা, রাজনৈতিক ও জনজীবনের বিভিন্ন ইস্যু একসঙ্গে সামনে আনতে পারলে আগামী দিনের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।
আয়োজকরা জানান, লংমার্চের বহরে এক হাজারের বেশি গাড়ি থাকবে। নির্ধারিত স্থানগুলোর পাশাপাশি যাত্রাপথে কোথাও বেশি লোকসমাগম হলে সেখানেও গাড়িবহর থামিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দিতে পারেন। বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন গাড়িও বহরে যুক্ত হবে। নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে রাখা হবে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সমাবেশ শেষে শনিবার রাতেই গাড়িবহর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে। যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবে আশা করি।
তিনি বলেন, যাত্রাপথে পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখা ইউনিটগুলো। মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে পথের সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না। গাড়িবহরের সব নেতাকর্মী পথসভায় নামবেন না। শুধু যারা বক্তব্য দেবেন তারাই নামবেন। পথে পথে নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে। আমরা খবর পাচ্ছি, লংমার্চে জনতার ঢল নামবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিকেল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১১ দলের ৬ দফা দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ। একই দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট লংমার্চ করবে দলগুলো। সর্বশেষ ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। এর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ওই দিন পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা রয়েছে জামায়াতের।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ বিরোধী দলের লংমার্চে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে। জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে। তবে সরকারি দল সে পথে হাঁটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’, সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। আমরা আন্দোলন করছি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। আমরা সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে অব্যাহতভাবে দেশ ও জাতির জন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চ ঘিরে এখন পর্যন্ত নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা নেই। ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছে। সবাই একসঙ্গে লংমার্চে গেলে দুষ্কৃতকারীরাও ভয় পাবে। তবে ন্যূনতম কোনো বিশৃঙ্খলা বা হামলা হলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে। একই সঙ্গে এমন ঘটনার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















