এবার ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেল–সহ বিভিন্ন জ্বালানির নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা না করতে সম্মত হয়েছে। তবে সমাজমাধ্যমে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য প্রচারের পরেই এমন ‘সর্বসম্মতি’র কথা খারিজ করেছে ইউক্রেন। সমাজমাধ্যমে অন্য একটি পোস্টে সোমবার ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আমেরিকার সঙ্গে ইরান একটি চুক্তি করতে সক্রিয় হয়েছে। ওয়াশিংটন সেই উদ্যোগে শামিল হবে কি না, তা তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
দুই যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে পেট্রোজ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণ ইউক্রেনের যুদ্ধ, ইরানের যুদ্ধ নয়! প্রথম পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা না করতে সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই কাজ করতে সম্মতি দিয়েছে।’’ ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেল–সহ বিভিন্ন জ্বালানির নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে চাপে ফেলেছে বলে ইতিমধ্যেই কয়েকটি জনমত সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই ট্রাম্প কৌশলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির দায় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন বলে আমেরিকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
দ্বিতীয় পোস্টে ট্রাম্পের মন্তব্য— ‘‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান দ্রুত এবং মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়। আমেরিকা এতে যুক্ত হবে কি না, তা আমি নির্ধারণ করব। প্রথম থেকেই এ বিষয়ে আমরা খোলা মন নিয়ে চলছি।’’ আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনায় নির্ণায়ক অগ্রগতি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রসঙ্গত, গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হরমুজ় প্রণালী নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে শান্তিপ্রক্রিয়া থমকে যায়।
এর পর অগস্টে পেন্টাগন নতুন করে সামরিক অভিযান চালায় এবং তেহরানও পাল্টা জবাব দেয়। কয়েকটি প্রাক্–নির্বাচনী সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এ বারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফল খারাপ হতে পারে। আইনসভার দুই কক্ষেই তাঁদের টেক্কা দিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। তা ছাড়া, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ইরান–যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আবহেও ট্রাম্পের উপর আস্থা কমছে মার্কিন নাগরিকদের। তাঁর রেটিং ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















