ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: মীর শাহে আলম সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সেই প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না: রিজভী রাজধানীর ফুটপাতে গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ‘৯ লাখ টাকায়’ রফাদফা! সৌদি আরবকে সাহায্য করলে মার্কিন স্বার্থে হামলা চালাতে দ্বিধা করব না: হুঁশিয়ারি হুতিদের আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান দেশে ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা জাতিসংঘের সামনে প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন বগুড়ার রুশমী, উচ্ছ্বসিত শিক্ষক সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা

সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সেই প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

এবার টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন এর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবনের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, সেতুতে বাঁশকাণ্ডের ঘটনায় দফায় দফায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত একজন উপ-সহকারীকে বরখাস্ত ও একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে যায় দুদক টাঙ্গাইল কার্যালয়ের। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।

একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সূত্র আরও জানায়, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন সেতুটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এসময় তারা মোবাইলফোনে এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জানতে চাইলে কাজী ফাত্তাউর রহমানের স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি এড়িয়ে যান টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন। তবে দুই প্রকৌশলীকে শোকজের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: মীর শাহে আলম

সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সেই প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি

আপডেট সময় ০৪:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন এর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবনের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, সেতুতে বাঁশকাণ্ডের ঘটনায় দফায় দফায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত একজন উপ-সহকারীকে বরখাস্ত ও একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে যায় দুদক টাঙ্গাইল কার্যালয়ের। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।

একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সূত্র আরও জানায়, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ নির্মাণাধীন সেতুটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এসময় তারা মোবাইলফোনে এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জানতে চাইলে কাজী ফাত্তাউর রহমানের স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি এড়িয়ে যান টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন। তবে দুই প্রকৌশলীকে শোকজের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।