ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাবি ক্যাম্পাসে চলন্ত শাটলে ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাই ৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন: কৃষিমন্ত্রী রাজুতে নিজেকে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বিসিএস পাস করেও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া জসিমের মেয়েদের সাথে অবাধ বিচরণসহ নানা অভিযোগে সাথী পদ বাতিল হয় আম্মারের এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর পক্ষে ‘আপসনামায়’ কী লিখেছেন দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা কেমনে হাদি হলের নাম মুছে মুজিবের নামে হয় মাথায় আসে না: পিনাকী শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পুনর্বহালের প্রতিবাদ ডাকসুর অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে কুমিল্লায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর

আম্মার ছিলেন শিবিরের ‘সাথী’, ‘পদ-বাণিজ্য’ করে হন বহিষ্কার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার ‘পদ-বাণিজ্য’সহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এক বছর আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারান।

গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তিনি সেটি করতে না পারায় সেপ্টেম্বরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।”

 

রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচনায় আসা ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এবার শিবিরের সাথী হিসেবে আম্মারের নাম সামনে আসায় ‘ডামি প্যানেলের’ বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসল।

এর আগে ৩১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হলেও সম্প্রতি বিষয়টি সামনে আসে।

ছাত্রশিবিরের পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ‘সাথী’ একটা পর্যায়। এই পর্যায় পেরনোর পর সদস্য ও দলের পদ পাওয়া যায়।

চিঠিতে বলা হয়, “নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়।

“পরে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

চিঠিতে বলা হয়, “আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সংগঠনটি মনে করছে। তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখাতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।”

সেইসঙ্গে চিঠিতে শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সই করা এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে ‘পদ-বাণিজ্যের’ অভিযোগের কথা বলা হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি ছাত্রশিবিরের নজরে আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের কয়েকটি অভিযোগও সংগঠনটির কাছে আসে।

অভিযোগগুলো নিয়ে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত চিঠিতে বলা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ঢাবি ক্যাম্পাসে চলন্ত শাটলে ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাই

আম্মার ছিলেন শিবিরের ‘সাথী’, ‘পদ-বাণিজ্য’ করে হন বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৯:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার ‘পদ-বাণিজ্য’সহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এক বছর আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারান।

গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তিনি সেটি করতে না পারায় সেপ্টেম্বরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।”

 

রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচনায় আসা ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এবার শিবিরের সাথী হিসেবে আম্মারের নাম সামনে আসায় ‘ডামি প্যানেলের’ বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসল।

এর আগে ৩১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হলেও সম্প্রতি বিষয়টি সামনে আসে।

ছাত্রশিবিরের পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ‘সাথী’ একটা পর্যায়। এই পর্যায় পেরনোর পর সদস্য ও দলের পদ পাওয়া যায়।

চিঠিতে বলা হয়, “নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়।

“পরে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

চিঠিতে বলা হয়, “আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সংগঠনটি মনে করছে। তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখাতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।”

সেইসঙ্গে চিঠিতে শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সই করা এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে ‘পদ-বাণিজ্যের’ অভিযোগের কথা বলা হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি ছাত্রশিবিরের নজরে আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের কয়েকটি অভিযোগও সংগঠনটির কাছে আসে।

অভিযোগগুলো নিয়ে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত চিঠিতে বলা হয়।