কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।
উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় আজ বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দলীয় নেতারা দাবি করেছেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের বিএনপি-সমর্থিত নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া-সমর্থিত উপজেলা বিএনপির নেতা আনোয়ার উল্যাহ, আক্তারুজ্জামান রকেট, হাফেজ বিল্লাল হোসেন, মাহবুব আলম, আসলাম মজুমদার ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলটি কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়কের বাগমারা বাইপাস এলাকা থেকে শুরু হয়ে বাগমারা দক্ষিণ বাজারে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ওঠে। সেখানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে মিছিল থেকে কিছু যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ঢ়ুকে হামলা ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রের ভাষ্য, হামলাকারীরা কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। একটি বড় টেবিলসহ তিন শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, একটি উন্নয়নকাজের দাপ্তরিক বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি গত দুই দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি জানতে পারেন।
ইউছুফ আলী মীর বলেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, ইকবাল হোসেন মজুমদার, যুবদল নেতা মানিক হোসেন ও সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে কিছু লোক কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের ভাঙচুর থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও বাদ যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, কার্যালয়ের চেয়ার ও কিছু ব্যানার-পোস্টার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারসহ ১৬টি বৈদ্যুতিক পাখা নষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের সাটারের তালা ভেঙে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করেন। তাঁরা কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















