ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করল এফবিআই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • ৩২২ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের এক রাষ্ট্রদূতকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। ২০০৭ সালে নিখোঁজ হওয়া অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই এজেন্ট রবার্ট এ “বব” লেভিনসনের অপহরণে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই রাষ্ট্রদূতের নাম রেজা আমিরি মোঘাদাম। তিনি বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাকিস্তানে নিযুক্ত আছেন। খবর ডনের।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে এফবিআই’র ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস তিনজন ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম-ছবিসহ পোস্টার প্রকাশ করে, যারা লেভিনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন রেজা আমিরি মোঘাদাম, যিনি আহমদ আমিরিনিয়া নামেও পরিচিত। তিনি একসময় ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমওআইএস) অপারেশন ইউনিট প্রধান ছিলেন এবং ইউরোপজুড়ে ইরানি গোয়েন্দা তৎপরতা তদারকি করতেন। বর্তমানে তিনি ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে রয়েছেন।

এফবিআই জানায়, মোঘাদাম ২০০৭ সালের অপারেশন তদারক করেছিলেন, যার মাধ্যমে লেভিনসনকে অপহরণ করা হয়। পরে তিনি সেই অপহরণ ঘটনা গোপন রাখার প্রচেষ্টাতেও যুক্ত ছিলেন। লেভিনসন ২০০৭ সালের ৮ মার্চ ইরানের কিশ দ্বীপে পৌঁছান এবং পরদিনই নিখোঁজ হয়ে যান। এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা এমন ইরানি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছি, যারা বব লেভিনসনের অপহরণ ও ঘটনাটি আড়াল করার কাজে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”

আরও যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে:

১. তাগি দানেশভার (ছদ্মনাম: সাইয়্যেদ তাগি গায়েমি): ইরানের এমওআইএস-এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা। তিনি মোহাম্মদ বাসেরি নামক এক এজেন্টকে তদারকি করতেন, যিনি লেভিনসন নিখোঁজ হওয়ার সময় সক্রিয় ছিলেন।

২. গোলাম হোসেইন মোহাম্মদনিয়া: এমওআইএস-এর সিনিয়র ডেপুটি। ২০১৬ সালে তিনি আলবেনিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তাকে ২০১৮ সালে “জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতির” অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এফবিআই-এর দাবি, তিনি লেভিনসনের নিখোঁজ হওয়ার দায় পাকিস্তানের বালুচিস্তানে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

এফবিআই’র ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর স্টিভেন জেনসেন বলেন, “এই তিনজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ২০০৭ সালের অপহরণ এবং পরবর্তীতে ইরান সরকারের গোপন প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত বব লেভিনসন বন্দিদশাতেই মৃত্যুবরণ করেন, পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরে, নির্জনে।” ২০১০ ও ২০১১ সালে লেভিনসনের বন্দিদশার কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল, তবে এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় মোঘাদামসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যদিও পাকিস্তানের কোনো কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনায় জড়িত করা হয়নি, তবে এখন লেভিনসনের অপহরণ মামলায় ইসলামাবাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে রেজা মোঘাদামের কূটনৈতিক দায়িত্বের কারণে। এফবিআই জানিয়েছে, তারা এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ইরানি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় ইরান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করল এফবিআই

আপডেট সময় ০২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

এবার ইরানের এক রাষ্ট্রদূতকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। ২০০৭ সালে নিখোঁজ হওয়া অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই এজেন্ট রবার্ট এ “বব” লেভিনসনের অপহরণে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই রাষ্ট্রদূতের নাম রেজা আমিরি মোঘাদাম। তিনি বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাকিস্তানে নিযুক্ত আছেন। খবর ডনের।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে এফবিআই’র ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস তিনজন ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম-ছবিসহ পোস্টার প্রকাশ করে, যারা লেভিনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন রেজা আমিরি মোঘাদাম, যিনি আহমদ আমিরিনিয়া নামেও পরিচিত। তিনি একসময় ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমওআইএস) অপারেশন ইউনিট প্রধান ছিলেন এবং ইউরোপজুড়ে ইরানি গোয়েন্দা তৎপরতা তদারকি করতেন। বর্তমানে তিনি ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে রয়েছেন।

এফবিআই জানায়, মোঘাদাম ২০০৭ সালের অপারেশন তদারক করেছিলেন, যার মাধ্যমে লেভিনসনকে অপহরণ করা হয়। পরে তিনি সেই অপহরণ ঘটনা গোপন রাখার প্রচেষ্টাতেও যুক্ত ছিলেন। লেভিনসন ২০০৭ সালের ৮ মার্চ ইরানের কিশ দ্বীপে পৌঁছান এবং পরদিনই নিখোঁজ হয়ে যান। এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা এমন ইরানি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছি, যারা বব লেভিনসনের অপহরণ ও ঘটনাটি আড়াল করার কাজে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”

আরও যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে:

১. তাগি দানেশভার (ছদ্মনাম: সাইয়্যেদ তাগি গায়েমি): ইরানের এমওআইএস-এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা। তিনি মোহাম্মদ বাসেরি নামক এক এজেন্টকে তদারকি করতেন, যিনি লেভিনসন নিখোঁজ হওয়ার সময় সক্রিয় ছিলেন।

২. গোলাম হোসেইন মোহাম্মদনিয়া: এমওআইএস-এর সিনিয়র ডেপুটি। ২০১৬ সালে তিনি আলবেনিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তাকে ২০১৮ সালে “জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতির” অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এফবিআই-এর দাবি, তিনি লেভিনসনের নিখোঁজ হওয়ার দায় পাকিস্তানের বালুচিস্তানে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

এফবিআই’র ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর স্টিভেন জেনসেন বলেন, “এই তিনজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ২০০৭ সালের অপহরণ এবং পরবর্তীতে ইরান সরকারের গোপন প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভবত বব লেভিনসন বন্দিদশাতেই মৃত্যুবরণ করেন, পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরে, নির্জনে।” ২০১০ ও ২০১১ সালে লেভিনসনের বন্দিদশার কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল, তবে এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় মোঘাদামসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যদিও পাকিস্তানের কোনো কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনায় জড়িত করা হয়নি, তবে এখন লেভিনসনের অপহরণ মামলায় ইসলামাবাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে রেজা মোঘাদামের কূটনৈতিক দায়িত্বের কারণে। এফবিআই জানিয়েছে, তারা এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ইরানি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় ইরান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।