ঢাকা , শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের ফেসবুক পেজে বিজয়ী ৩৮ প্রার্থীর নাম ৫০ কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী ডা. তাহের বড় ব্যবধানে এগিয়ে ঢাকা-১০ আসনে ৪ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে বিএনপি যশোর-২ চৌগাছা ৬০ কেন্দ্রে জামায়াত এগিয়ে, ধানের শীষ পেছনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে ৪৫ কেন্দ্রে এগিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নিজ কেন্দ্রে ৫ ভোটে পরাজিত জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, জয়ী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান ধানের শীষে বিজয়ী নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষে জয়ী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা-১৫ আসনে ৩০ কেন্দ্রে এগিয়ে ডা. শফিকুর রহমান, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ ভোটগ্রহণ ঢাকা-৬ আসনে তিন কেন্দ্রে এগিয়ে ইশরাক হোসেন, ধানের শীষে ২৮০০ ভোট

রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি: ইফতেখারুজ্জামান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায় জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ কারণে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আমরা যে ন্যারেটিভ তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে, সরকারের হাত-পা বেঁধে দেবেন না। জনগণের কাছে জবাবদিহি, সরকার ব্যবস্থার জন্য চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স উপস্থাপনা করা হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের আপত্তি ছিল।’

এসময় ভোটের মাঠে মবের ভয় দেখছেন কি না- জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে মবের বিষয়টি শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। সরকার পরিচালনার কেন্দ্রস্থল সচিবালয়, সেখানে থেকে কিন্তু মবের উৎপত্তি। সরকার মবকে ক্ষমতায়িত করেছে। মবের কারণে সরকারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ না করলে মব নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচার, সংস্কার, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অংশীজনের ভূমিকা নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা চালায় টিআইবি। যেখানে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, রাষ্ট্র সংস্কারসহ ১৮টি পদক্ষেপের অগ্রগতি-ঘাটতি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগে বিতর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়রানি দেখা গেছে। এছাড়া, গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে র‍্যাব বিলুপ্তি ও গোয়েন্দা বাহিনীর সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, তাদের অনুদান দেওয়ার কিছুক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতি দেখা গেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে বলা হয়, শীর্ষ পর্যায়ের ২৪৯ ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হলেও এর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে টিআইবি জানায়, দাবি আদায়ে বারবার সড়ক অবরোধের প্রবণতা রোধে ঘাটতি দেখা গেছে। আন্দোলনে দমন করতে পুলিশের কার্যক্রমে বৈষম্য দেখা গেছে। আর্থিক খাত প্রসঙ্গে বলা হয়, টাকা ছাপানো বন্ধ হয়নি। ব্যবসায় সিন্ডিকেট প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি, দারিদ্র বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ কমেছে। অর্থনীতির সংস্কার সংক্রান্ত শ্বেতপত্রের সুপারিশ গুরুত্ব পায়নি। বিভিন্ন জনের গ্রেপ্তার নিয়ে লুকোচুরি, নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবকে সুশাসনের ঘাটতি বলছে টিআইবি। এছাড়া, বঞ্চিত হওয়ার নামে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায়, ডিসি পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ ও স্থানীয় সরকারের ক্রয় খাতে দুর্নীতির কথা জানানো হয়েছে গবেষণায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের ফেসবুক পেজে বিজয়ী ৩৮ প্রার্থীর নাম

রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি: ইফতেখারুজ্জামান

আপডেট সময় ০২:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায় জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ কারণে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আমরা যে ন্যারেটিভ তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে, সরকারের হাত-পা বেঁধে দেবেন না। জনগণের কাছে জবাবদিহি, সরকার ব্যবস্থার জন্য চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স উপস্থাপনা করা হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের আপত্তি ছিল।’

এসময় ভোটের মাঠে মবের ভয় দেখছেন কি না- জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে মবের বিষয়টি শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। সরকার পরিচালনার কেন্দ্রস্থল সচিবালয়, সেখানে থেকে কিন্তু মবের উৎপত্তি। সরকার মবকে ক্ষমতায়িত করেছে। মবের কারণে সরকারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ না করলে মব নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচার, সংস্কার, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অংশীজনের ভূমিকা নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা চালায় টিআইবি। যেখানে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, রাষ্ট্র সংস্কারসহ ১৮টি পদক্ষেপের অগ্রগতি-ঘাটতি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগে বিতর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়রানি দেখা গেছে। এছাড়া, গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে র‍্যাব বিলুপ্তি ও গোয়েন্দা বাহিনীর সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, তাদের অনুদান দেওয়ার কিছুক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতি দেখা গেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে বলা হয়, শীর্ষ পর্যায়ের ২৪৯ ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হলেও এর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে টিআইবি জানায়, দাবি আদায়ে বারবার সড়ক অবরোধের প্রবণতা রোধে ঘাটতি দেখা গেছে। আন্দোলনে দমন করতে পুলিশের কার্যক্রমে বৈষম্য দেখা গেছে। আর্থিক খাত প্রসঙ্গে বলা হয়, টাকা ছাপানো বন্ধ হয়নি। ব্যবসায় সিন্ডিকেট প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি, দারিদ্র বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ কমেছে। অর্থনীতির সংস্কার সংক্রান্ত শ্বেতপত্রের সুপারিশ গুরুত্ব পায়নি। বিভিন্ন জনের গ্রেপ্তার নিয়ে লুকোচুরি, নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবকে সুশাসনের ঘাটতি বলছে টিআইবি। এছাড়া, বঞ্চিত হওয়ার নামে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায়, ডিসি পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ ও স্থানীয় সরকারের ক্রয় খাতে দুর্নীতির কথা জানানো হয়েছে গবেষণায়।