ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা বগা আমার গাড়িতে উঠেছে, প্রমাণ দিলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো: মেয়র শাহাদাত ২০ বছরের আক্ষেপ ঘুচলো মিরপুরবাসীর, হকারমুক্ত ফুটপাতে স্বস্তি দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে আজও বিক্ষোভে বিরোধীরা, যোগ দিচ্ছেন মমতা ‘ট্রেনিংয়ের জন্য নিয়ে আইছে, এখন দেখছি মিছিল’, এনসিপির কর্মসূচি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্য! মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে নির্যাতনে জড়িত শিবির কি ক্ষমা চাইবে না: আব্দুল কাদের চাঁদা না দেওয়ায় মাছের খামারে ভাঙচুর ও বিষ প্রয়োগ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার হিজবুল্লাহকে ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিল ইরান বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রূপপুর, কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এবার মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয় বিএস-১-কে। পরে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় শঙ্কা।

ঘটনার শুরু গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে আসে জরুরি সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্পেস ট্র্যাকার’ জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে ধেয়ে আসছে একটি মহাকাশ বর্জ্য। তৎপর হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। কারণ, মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা কোনো বড় বস্তুর সংঘর্ষ হলে তৈরি হতে পারে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ। ২০০৯ সালে এমনই এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সচল একটি স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

বিএস-১-এর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে চলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বিএস-১। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে বিএস-১-কে পাশ কাটিয়ে যায় সেই মহাকাশ বর্জ্য। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশের স্যাটেলাইট। বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা বগা আমার গাড়িতে উঠেছে, প্রমাণ দিলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো: মেয়র শাহাদাত

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

আপডেট সময় ১১:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

এবার মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয় বিএস-১-কে। পরে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় শঙ্কা।

ঘটনার শুরু গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে আসে জরুরি সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্পেস ট্র্যাকার’ জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে ধেয়ে আসছে একটি মহাকাশ বর্জ্য। তৎপর হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। কারণ, মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা কোনো বড় বস্তুর সংঘর্ষ হলে তৈরি হতে পারে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ। ২০০৯ সালে এমনই এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সচল একটি স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

বিএস-১-এর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে চলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বিএস-১। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে বিএস-১-কে পাশ কাটিয়ে যায় সেই মহাকাশ বর্জ্য। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশের স্যাটেলাইট। বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।