ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার নিজেই হারালেন চাকরি মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে, সেই নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার: ইরানের সেনাপ্রধান গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আদালতে যাচ্ছে ভারত ইরান যুদ্ধে যোগ না দেয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের ইউরোপে যাওয়া পথে ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু আমার আসন বাংলাদেশের একটা আলাদা আসন, এখানকার সরকারই আমি: আমির হামজা

আমার আর কোনও উপায় নেই: ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্প জানান, এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার অনুরোধ জানালে তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আলোচনায় সম্মত হন। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা চালাতে যাচ্ছিলাম। তখন তারা আমাকে ফোন করে খুব ভদ্রভাবে বলল, ‘দয়া করে, আমরা কি কথা বলতে পারি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমরা কথা বলতে পারি। চলুন, এবার বিষয়টির সমাধান করি

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আবারও আলোচনা থেকে সরে আসে, তাহলে দেশটিকে কঠোর জবাবের মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘তারা যদি আবারও পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। তারা এটা জানে, বোঝেও। আমার আর কোনও উপায় নেই। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। বিষয়টি খুবই সহজ।মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যেখুব ভালো আলোচনাচলছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, তেহরান প্রকাশ্যে এখনও এ অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেনি। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কার্যকর পদক্ষেপ। তারা সমঝোতা করতে চায়। দেখা যাক কী হয়। যদি তারা সমঝোতা না করে, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক হবে।

ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার সারাদিনই ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আজ সারাদিন আলোচনা হয়েছে এবং সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যদি হরমুজ প্রণালি খুলে যায় আর আমাদের মধ্যে কোনও উত্তেজনা না থাকে, তাহলে জ্বালানির দাম কমে প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।তিনি আরও বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর এখন জ্বালানির দাম কমানো উচিত। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাখুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জানতে পারব কী হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ওয়াশিংটনতেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারের (৫ আগস্ট) মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে তিনি আশা করছেন, খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হবে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এরপর এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তারা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পরে সংঘাত নিরসনের আলোচনা শুরুর খবরের মধ্যে ট্রাম্প হঠাৎ করেই বোমা হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কাল থেকে রাজধানীতে চলবে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী

আমার আর কোনও উপায় নেই: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ট্রাম্প জানান, এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার অনুরোধ জানালে তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আলোচনায় সম্মত হন। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা চালাতে যাচ্ছিলাম। তখন তারা আমাকে ফোন করে খুব ভদ্রভাবে বলল, ‘দয়া করে, আমরা কি কথা বলতে পারি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমরা কথা বলতে পারি। চলুন, এবার বিষয়টির সমাধান করি

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আবারও আলোচনা থেকে সরে আসে, তাহলে দেশটিকে কঠোর জবাবের মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘তারা যদি আবারও পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। তারা এটা জানে, বোঝেও। আমার আর কোনও উপায় নেই। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। বিষয়টি খুবই সহজ।মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যেখুব ভালো আলোচনাচলছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, তেহরান প্রকাশ্যে এখনও এ অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেনি। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কার্যকর পদক্ষেপ। তারা সমঝোতা করতে চায়। দেখা যাক কী হয়। যদি তারা সমঝোতা না করে, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক হবে।

ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার সারাদিনই ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আজ সারাদিন আলোচনা হয়েছে এবং সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যদি হরমুজ প্রণালি খুলে যায় আর আমাদের মধ্যে কোনও উত্তেজনা না থাকে, তাহলে জ্বালানির দাম কমে প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।তিনি আরও বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর এখন জ্বালানির দাম কমানো উচিত। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাখুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জানতে পারব কী হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ওয়াশিংটনতেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারের (৫ আগস্ট) মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে তিনি আশা করছেন, খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হবে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এরপর এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তারা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পরে সংঘাত নিরসনের আলোচনা শুরুর খবরের মধ্যে ট্রাম্প হঠাৎ করেই বোমা হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন।