ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর অস্ত্র আছে: ট্রাম্প ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা ১১-দলীয় ঐক্যের মহেশখালী এমএলএনজি টার্মিনাল থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার, আদালতে দাঁড়ায়নি কেউ কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার ওপর হামলা, ১৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ আগামী ১০ বছরের মধ্যে সরকার গঠন করতে চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম “মারো না কেন ওদের?”, ফোনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেও ফিফা সভাপতি পদেই থাকছেন ইনফান্তিনো মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট কিস্তি না পেয়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে গেলেন এনজিও কর্মীরা

মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না।’

বুধবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, অন্য ধর্মের কোনো উদ্ধৃতি বা কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করলেই কি একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বদলে যায়? আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভিন্ন ধর্মের কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করলেই কেউ নিজের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যান না।

এ সময় আদালত খ্রিস্টান পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণও তুলে ধরে বলেন, সেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রার্থনায় অংশ নেয়। সে ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীত নয়, জাতীয় গান। তাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, নির্দেশিকা বাস্তবায়ন না করায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না। জবাবে রাজ্যের পক্ষ সময় চেয়ে হলফনামা দাখিলের আবেদন করে। পরে আদালত রাজ্য সরকারের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি রাখেন।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম বিল’ নামে পরিচিত এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় গানকে জাতীয় সংগীতের সমপর্যায়ের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গানের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর অস্ত্র আছে: ট্রাম্প

মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১২:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না।’

বুধবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, অন্য ধর্মের কোনো উদ্ধৃতি বা কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করলেই কি একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বদলে যায়? আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভিন্ন ধর্মের কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করলেই কেউ নিজের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যান না।

এ সময় আদালত খ্রিস্টান পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণও তুলে ধরে বলেন, সেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রার্থনায় অংশ নেয়। সে ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীত নয়, জাতীয় গান। তাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, নির্দেশিকা বাস্তবায়ন না করায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না। জবাবে রাজ্যের পক্ষ সময় চেয়ে হলফনামা দাখিলের আবেদন করে। পরে আদালত রাজ্য সরকারের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি রাখেন।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম বিল’ নামে পরিচিত এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় গানকে জাতীয় সংগীতের সমপর্যায়ের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গানের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।