ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কোরআনের আলোকে বাংলাদেশের পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেব: সেলিম উদ্দিন হেবা আইনে স্পর্শ করার ক্ষমতা ইহজাগতিক কারও নেই: আইনমন্ত্রী পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক চীন, জানালেন শি জিনপিং কিয়ার স্টারমারের আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী মুসলিম নারী রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দিল্লির সঙ্গে সরকারের গোপন আঁতাতেই আ. লীগ মিছিল করার সুযোগ পাচ্ছে’ সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ যুক্ত করার দাবি মামুনুল হকের বাবা-মাকে সুরক্ষা দিতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে: আইনমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন মেনে নেবে না জনগণ: মামুনুল হক ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা

মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না।’

বুধবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, অন্য ধর্মের কোনো উদ্ধৃতি বা কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করলেই কি একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বদলে যায়? আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভিন্ন ধর্মের কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করলেই কেউ নিজের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যান না।

এ সময় আদালত খ্রিস্টান পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণও তুলে ধরে বলেন, সেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রার্থনায় অংশ নেয়। সে ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীত নয়, জাতীয় গান। তাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, নির্দেশিকা বাস্তবায়ন না করায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না। জবাবে রাজ্যের পক্ষ সময় চেয়ে হলফনামা দাখিলের আবেদন করে। পরে আদালত রাজ্য সরকারের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি রাখেন।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম বিল’ নামে পরিচিত এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় গানকে জাতীয় সংগীতের সমপর্যায়ের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গানের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরআনের আলোকে বাংলাদেশের পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেব: সেলিম উদ্দিন

মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১২:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না।’

বুধবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, অন্য ধর্মের কোনো উদ্ধৃতি বা কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করলেই কি একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বদলে যায়? আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভিন্ন ধর্মের কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করলেই কেউ নিজের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে যান না।

এ সময় আদালত খ্রিস্টান পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণও তুলে ধরে বলেন, সেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রার্থনায় অংশ নেয়। সে ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীত নয়, জাতীয় গান। তাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, নির্দেশিকা বাস্তবায়ন না করায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না। জবাবে রাজ্যের পক্ষ সময় চেয়ে হলফনামা দাখিলের আবেদন করে। পরে আদালত রাজ্য সরকারের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি রাখেন।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম বিল’ নামে পরিচিত এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় গানকে জাতীয় সংগীতের সমপর্যায়ের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গানের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।