এবার রাজশাহীতে যৌতুকের এক লাখ টাকা না আনায় স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কীটনাশক পান করে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এই সুযোগে স্বামী তার স্ত্রীর শরীর থেকে সোনার সব গয়না খুলে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ পড়ে আছে হাসপাতালের হিমঘরে। মঙ্গলবার (৫ মে) মধ্যরাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই গৃহবধূ। এরপর থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নিহত হাসিনা খাতুন (২১) নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আন্দারদিঘি গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. ছবির ছেলে রাতুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
হাসিনার খালাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, রাতুল মাদক ব্যবসায়ী এবং নিজেও মাদকসেবী। বিয়ের পর থেকেই সে হাসিনাকে চাপ দিয়ে আসছিল বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে, যা দিয়ে সে ফেনসিডিলের ব্যবসা করবে। হাসিনা সেই টাকা দিতে না পারায় রাতুল তাকে নিয়মিত নির্যাতন করত। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হাসিনা কীটনাশক পান করেন। এরপর তাকে প্রথমে প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে হাসিনার পাশে ছিলেন স্বামী রাতুল, তার বোন লাইলা খাতুন এবং রাতুলের দুই বন্ধু। মঙ্গলবার রাতে হাসিনা মারা গেলে তার শরীর থেকে স্বর্ণালঙ্কার খুলে নিয়ে রাতুলসহ সবাই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। এ নিয়ে বুধবার (৬ মে) হাসিনার বোন মেহেরুন্নেসা গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হাসিনার মৃত্যুর পর থেকে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে হাসিনার মরদেহ বাবার বাড়ির স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























