ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

রাতে বাসস্ট্যান্ডে ছদ্মবেশে নারী পুলিশ কমিশনার, তিন ঘণ্টায় ৪০ জনের কুপ্রস্তাব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ১২০৫ বার পড়া হয়েছে

শহরের রাস্তায় নারীরা কতটা নিরাপদসেই বাস্তবতা জানতে অভিনব এক উদ্যোগ নিলেন ভারতের হায়দরাবাদের এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা। গভীর রাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণ করেন পরিস্থিতি।  আর মাত্র তিন ঘণ্টার সেই অভিযানে উঠে আসে উদ্বেগজনক চিত্রপ্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এসে কথা বলা কিংবা কুপ্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার সুমতি, যিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের একজন সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা, নারী নিরাপত্তার বাস্তব অবস্থা বুঝতে নিজেই এই পদক্ষেপ নেন। মধ্যরাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মালকাজ়গিরি থানার কাছে একটি বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ পোশাকে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি নিজের পুলিশ পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখেন।

এই তিন ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসে। কেউ আলাপ করার চেষ্টা করে, কেউ সরাসরি কুপ্রস্তাব দেয়। তাদের মধ্যে তরুণ ও শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন আবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে কেউই বুঝতে পারেননি, যাকে তারা সাধারণ নারী ভেবে বিরক্ত করছেন, তিনি আসলে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুধু অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিক মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ একদিকে যেমন বাস্তব সমস্যাকে সামনে আনে, অন্য দিকে সমাজে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, এটি সুমতির প্রথম এমন অভিযান নয়। কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়েও তিনি একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি এর আগেস্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি)’-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১ মে তিনি মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাতে বাসস্ট্যান্ডে ছদ্মবেশে নারী পুলিশ কমিশনার, তিন ঘণ্টায় ৪০ জনের কুপ্রস্তাব

আপডেট সময় ১১:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

শহরের রাস্তায় নারীরা কতটা নিরাপদসেই বাস্তবতা জানতে অভিনব এক উদ্যোগ নিলেন ভারতের হায়দরাবাদের এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা। গভীর রাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণ করেন পরিস্থিতি।  আর মাত্র তিন ঘণ্টার সেই অভিযানে উঠে আসে উদ্বেগজনক চিত্রপ্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এসে কথা বলা কিংবা কুপ্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার সুমতি, যিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের একজন সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা, নারী নিরাপত্তার বাস্তব অবস্থা বুঝতে নিজেই এই পদক্ষেপ নেন। মধ্যরাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মালকাজ়গিরি থানার কাছে একটি বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ পোশাকে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি নিজের পুলিশ পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখেন।

এই তিন ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসে। কেউ আলাপ করার চেষ্টা করে, কেউ সরাসরি কুপ্রস্তাব দেয়। তাদের মধ্যে তরুণ ও শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন আবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে কেউই বুঝতে পারেননি, যাকে তারা সাধারণ নারী ভেবে বিরক্ত করছেন, তিনি আসলে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুধু অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিক মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ একদিকে যেমন বাস্তব সমস্যাকে সামনে আনে, অন্য দিকে সমাজে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, এটি সুমতির প্রথম এমন অভিযান নয়। কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়েও তিনি একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি এর আগেস্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি)’-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১ মে তিনি মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র: এনডিটিভি