ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ আগে বলত ‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী’, এখন বলছে ‘গুপ্ত’: জাহিদুল ইসলাম মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার বিরোধীদলীয় নেতার জন্য হায়াতে তাইয়্যেবার দোয়া করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরলে ফাঁসির কাষ্ঠে নিতে জুলাই শহীদদের পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা

মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রের মালিকদের অর্থ দেওয়ার বিতর্কিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ব্যবস্থা থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন করে অনুমোদন পাওয়া তিনটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালিত হবে ‘নো পাওয়ার, নো মানি’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে অর্থ দেওয়া হবে, উৎপাদন না করলে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা গ্যাসের উপরও নির্ভর করব না। লোকাল কয়লা যেটা বড়পুকুরিয়ার কয়লা বললেন, সেখানে তিনটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। তার মধ্যে একটা নন ফাংশনাল, আরেকটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, আরেকটাতে নতুন স্থাপন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা ওখানে ৬২০ মেগাওয়াটের একটা নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশীয় কয়লা দিয়ে চালু করতে হবে। এবং যেটা এখন চলমান আছে সেটাকে সংস্কার করে আরও সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সেটা এখন দুর্বল সক্ষমতায়।’

২০২১ সালের পর বিশ্বব্যাপী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু ২১ সালের মধ্যে একটা বিদ্যুৎকেন্দ্রের এগ্রিমেন্ট আমাদের এখানে হয়েছিল, পায়রাতে সেকেন্ড ফেজ। সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেটা ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র; অতি শিগগিরই কিন্তু সেখানে শুরু হবে।’

গ্রিডলাইন নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যদি গ্রিডলাইন তৈরি করতে হয় তারা যদি একসঙ্গে না করে প্রয়োজনে সরকার অর্থায়ন করে সেই গ্রিডলাইন নির্মাণ করা হবে।’

বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া সংকটে পরিপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থা, ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র যেটা রেখে গিয়েছে; আমরা যেটা ইনহেরিট করেছি (উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি) তা ছয় মাসের ভেতরে সবকিছু রিনিউ করে ফেলব, এটা আশা করাটা আমার মনে হয় ঠিক হবে না।’

সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায় সময় বক্তব্যে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন, আপনাদের ভোগান্তি হচ্ছে। এই ভোগান্তি আমাদের সৃষ্ট নয়। এই ভোগান্তি বৈশ্বিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সৃষ্টি করে গেছে ফ্যাসিবাদী সিস্টেম। এই ভোগান্তি সৃষ্টি করে গেছে বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল।’

অতীতে জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এনার্জির কোনো ব্যবস্থা না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে গেছে। গ্যাস কোত্থেকে আসবে জানে না, পাইপলাইন নাই।’

ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টা এটা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা রেখে গিয়েছে। আমরা ইনহেরিট করছি। কিন্তু এখন বিদ্যুতের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তিনটা রেন্টাল পাওয়ার কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছেন। কীসের ভিত্তিতে? নো ক্যাপাসিটি চার্জ; নো পাওয়ার, নো মানি। এটাই হচ্ছে আমাদের দেশপ্রেম। আমরা ওই জায়গায় নাই।’

বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কিছু চুক্তি নিয়েও সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাতারাতি কোন দেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাতিল করা যায় না। আমরা জানি মাত্রাতিরিক্ত জাতির পয়সা অপচয় করে কিছু বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করেছে বর্ডারের ওপাশ থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন যদি বন্ধ করে দেই, ইন্টারন্যাশনাল আর্বিট্রেশনে (আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত) যাবে এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এমনিতে এখানে বিদ্যুতের ক্রাইসিস। যদি এই মুহূর্তে আমরা সেই জায়গায় যাই তাহলে আমরা আরও ১৬০০ মেগাওয়াট পাবো না। সেই জায়গা কী আমরা এফোর্ড করতে পারবো? রাষ্ট্র পরিচালনা ধৈর্য সহকারে যেতে হয়। সেজন্য আমি আশা করি আমার বন্ধুদের (বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের) সবরে জামিল প্রদান করবেন রব্বুল আলামিন।’

পরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের কথা বলা হয়েছে, যেটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা একটি সহজ নয়। কারণ, চুক্তিটা হয় রাষ্ট্রের সঙ্গে; আমরা সেটা ইভালুয়েট (যাচাই) করছি। কিন্তু যেসব পাওয়ার প্লান্টগুলোর মেয়াদ শেষ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এ ধরনের পাঁচটি পাওয়ার প্লান্টের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি এই সপ্তাহ থেকেই এই পাঁচটি পাওয়ার প্লান্ট থেকে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবো; সযেখানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে না।’

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যেকোনো পাবলিক মিটিংয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে যখন কথা উঠে তখন প্রধানমন্ত্রীকে দেখি একনলেজ (ভুল স্বীকার করা) করে সাবমিসিভ ওয়েতে (বিনয়ের সঙ্গে) দুঃখ প্রকাশ করতে। বাট আনফরচুনেটলি (কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যারা থাকেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ—সেই জিনিসটা সেভাবে এড্রেস করেন না। আমরা হাম্বল রিকোয়েস্ট (বিনীত অনুরোধ) করব, জাতির সামনে যদি প্রকাশ করেন এবং পরিষ্কার রাখেন, তাহলে ভালো হয় এই জিনিসটা। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই জিনিসটা এড্রেস করেন সাবমিসিভ ওয়েতে একনলেজ করেন (বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি স্বীকার করেন), দুঃখ প্রকাশ করেন; মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার

আপডেট সময় ১১:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রের মালিকদের অর্থ দেওয়ার বিতর্কিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ব্যবস্থা থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন করে অনুমোদন পাওয়া তিনটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালিত হবে ‘নো পাওয়ার, নো মানি’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে অর্থ দেওয়া হবে, উৎপাদন না করলে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা গ্যাসের উপরও নির্ভর করব না। লোকাল কয়লা যেটা বড়পুকুরিয়ার কয়লা বললেন, সেখানে তিনটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। তার মধ্যে একটা নন ফাংশনাল, আরেকটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, আরেকটাতে নতুন স্থাপন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা ওখানে ৬২০ মেগাওয়াটের একটা নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশীয় কয়লা দিয়ে চালু করতে হবে। এবং যেটা এখন চলমান আছে সেটাকে সংস্কার করে আরও সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সেটা এখন দুর্বল সক্ষমতায়।’

২০২১ সালের পর বিশ্বব্যাপী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু ২১ সালের মধ্যে একটা বিদ্যুৎকেন্দ্রের এগ্রিমেন্ট আমাদের এখানে হয়েছিল, পায়রাতে সেকেন্ড ফেজ। সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেটা ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র; অতি শিগগিরই কিন্তু সেখানে শুরু হবে।’

গ্রিডলাইন নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যদি গ্রিডলাইন তৈরি করতে হয় তারা যদি একসঙ্গে না করে প্রয়োজনে সরকার অর্থায়ন করে সেই গ্রিডলাইন নির্মাণ করা হবে।’

বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া সংকটে পরিপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থা, ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র যেটা রেখে গিয়েছে; আমরা যেটা ইনহেরিট করেছি (উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি) তা ছয় মাসের ভেতরে সবকিছু রিনিউ করে ফেলব, এটা আশা করাটা আমার মনে হয় ঠিক হবে না।’

সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায় সময় বক্তব্যে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন, আপনাদের ভোগান্তি হচ্ছে। এই ভোগান্তি আমাদের সৃষ্ট নয়। এই ভোগান্তি বৈশ্বিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সৃষ্টি করে গেছে ফ্যাসিবাদী সিস্টেম। এই ভোগান্তি সৃষ্টি করে গেছে বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল।’

অতীতে জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এনার্জির কোনো ব্যবস্থা না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে গেছে। গ্যাস কোত্থেকে আসবে জানে না, পাইপলাইন নাই।’

ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টা এটা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা রেখে গিয়েছে। আমরা ইনহেরিট করছি। কিন্তু এখন বিদ্যুতের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তিনটা রেন্টাল পাওয়ার কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছেন। কীসের ভিত্তিতে? নো ক্যাপাসিটি চার্জ; নো পাওয়ার, নো মানি। এটাই হচ্ছে আমাদের দেশপ্রেম। আমরা ওই জায়গায় নাই।’

বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কিছু চুক্তি নিয়েও সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাতারাতি কোন দেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাতিল করা যায় না। আমরা জানি মাত্রাতিরিক্ত জাতির পয়সা অপচয় করে কিছু বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করেছে বর্ডারের ওপাশ থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন যদি বন্ধ করে দেই, ইন্টারন্যাশনাল আর্বিট্রেশনে (আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত) যাবে এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এমনিতে এখানে বিদ্যুতের ক্রাইসিস। যদি এই মুহূর্তে আমরা সেই জায়গায় যাই তাহলে আমরা আরও ১৬০০ মেগাওয়াট পাবো না। সেই জায়গা কী আমরা এফোর্ড করতে পারবো? রাষ্ট্র পরিচালনা ধৈর্য সহকারে যেতে হয়। সেজন্য আমি আশা করি আমার বন্ধুদের (বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের) সবরে জামিল প্রদান করবেন রব্বুল আলামিন।’

পরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের কথা বলা হয়েছে, যেটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা একটি সহজ নয়। কারণ, চুক্তিটা হয় রাষ্ট্রের সঙ্গে; আমরা সেটা ইভালুয়েট (যাচাই) করছি। কিন্তু যেসব পাওয়ার প্লান্টগুলোর মেয়াদ শেষ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এ ধরনের পাঁচটি পাওয়ার প্লান্টের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি এই সপ্তাহ থেকেই এই পাঁচটি পাওয়ার প্লান্ট থেকে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবো; সযেখানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে না।’

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যেকোনো পাবলিক মিটিংয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে যখন কথা উঠে তখন প্রধানমন্ত্রীকে দেখি একনলেজ (ভুল স্বীকার করা) করে সাবমিসিভ ওয়েতে (বিনয়ের সঙ্গে) দুঃখ প্রকাশ করতে। বাট আনফরচুনেটলি (কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যারা থাকেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ—সেই জিনিসটা সেভাবে এড্রেস করেন না। আমরা হাম্বল রিকোয়েস্ট (বিনীত অনুরোধ) করব, জাতির সামনে যদি প্রকাশ করেন এবং পরিষ্কার রাখেন, তাহলে ভালো হয় এই জিনিসটা। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই জিনিসটা এড্রেস করেন সাবমিসিভ ওয়েতে একনলেজ করেন (বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি স্বীকার করেন), দুঃখ প্রকাশ করেন; মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়।’