ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এক সমুদ্রে দুই নিয়ম, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের যত ক্ষোভ ১৭ বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে: সাদিক কায়েম ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল-আলহামদুলিল্লাহ’ ইসরায়েলের বর্বরতা: ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ সালমান মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলতে পারে অনেক প্রশ্নের উত্তর ঢাবি ক্যাম্পাসে চলন্ত শাটলে ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাই

গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

এবার গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, রাজধানীর ‘গুলশান-বারিধারার মতো একটি বিশিষ্ট এলাকার লেকের পানি যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তাহলে সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব?।’ বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন। জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, শুধু গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক এবং হাতিরঝিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে প্রায় ছয়বার বৈঠক করেছেন। এসব এলাকার পরিবেশ ঠিক করতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবনে নিয়ম অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) থাকার কথা থাকলেও অনেক ভবনে তা নেই। নামিদামি ডেভেলপাররা ভবন করেছেন, কিন্তু এসটিপি করে যাননি। ফলে স্যুয়ারেজের পানি স্টর্ম ওয়াটারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।’ এ সমস্যা সমাধানে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লেকের পানি ও এলাকার পরিবেশ ঠিক করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথমে দেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে এর আওতায় আনা হচ্ছে। পরে বড় শহর ও উপজেলা পর্যায়েও পরিকল্পনা সম্প্রসারণ করা হবে।

কোথায় কী ধরনের স্থাপনা হবে, তা নির্ধারণে জোনিং করা হবে জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, এ জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে (ইউডিডি) শক্তিশালী করা হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার জন্য নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ সব বিষয় সমন্বিতভাবে অনুমোদনের আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের পর অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও নকশাকারীদের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত ভবন শনাক্ত করা হচ্ছে।

এ ধরনের ভবনের বিষয়ে একটি বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে তা মন্ত্রিসভায় তোলার চেষ্টা করা হবে। রাজধানীর বর্তমান অবস্থাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরের পরিস্থিতি উন্নত করতে সঠিক পরিকল্পনা ও সব খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কনক্লেভে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা, আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় না আনলে বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি সম্ভব নয়।

রাজধানীর দুরবস্থার অন্যতম কারণ আইন না মানার প্রবণতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজউকের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক পরিদর্শকের পক্ষে পুরো ঢাকার ভবন নিয়মিত তদারক করা সম্ভব নয়। ভবন মালিক, ডেভেলপার, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে আইন মানতে হবে। তিনি বলেন, গ্রিন বিল্ডিংয়ে প্রণোদনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনে অতিরিক্ত ফ্লোর স্পেস, ভবনের নকশায় সৌরবিদ্যুৎ এবং এক বিঘা জমিতে ১০ শতাংশ গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও নিরাপত্তা নিয়েও কাজ চলছে। কনক্লেভে বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসন খাত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এক সমুদ্রে দুই নিয়ম, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের যত ক্ষোভ

গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

এবার গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, রাজধানীর ‘গুলশান-বারিধারার মতো একটি বিশিষ্ট এলাকার লেকের পানি যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তাহলে সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করব?।’ বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন। জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, শুধু গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক এবং হাতিরঝিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে প্রায় ছয়বার বৈঠক করেছেন। এসব এলাকার পরিবেশ ঠিক করতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবনে নিয়ম অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) থাকার কথা থাকলেও অনেক ভবনে তা নেই। নামিদামি ডেভেলপাররা ভবন করেছেন, কিন্তু এসটিপি করে যাননি। ফলে স্যুয়ারেজের পানি স্টর্ম ওয়াটারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।’ এ সমস্যা সমাধানে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লেকের পানি ও এলাকার পরিবেশ ঠিক করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথমে দেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে এর আওতায় আনা হচ্ছে। পরে বড় শহর ও উপজেলা পর্যায়েও পরিকল্পনা সম্প্রসারণ করা হবে।

কোথায় কী ধরনের স্থাপনা হবে, তা নির্ধারণে জোনিং করা হবে জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, এ জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে (ইউডিডি) শক্তিশালী করা হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার জন্য নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ সব বিষয় সমন্বিতভাবে অনুমোদনের আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের পর অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও নকশাকারীদের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত ভবন শনাক্ত করা হচ্ছে।

এ ধরনের ভবনের বিষয়ে একটি বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে তা মন্ত্রিসভায় তোলার চেষ্টা করা হবে। রাজধানীর বর্তমান অবস্থাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরের পরিস্থিতি উন্নত করতে সঠিক পরিকল্পনা ও সব খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কনক্লেভে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা, আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় না আনলে বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি সম্ভব নয়।

রাজধানীর দুরবস্থার অন্যতম কারণ আইন না মানার প্রবণতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজউকের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক পরিদর্শকের পক্ষে পুরো ঢাকার ভবন নিয়মিত তদারক করা সম্ভব নয়। ভবন মালিক, ডেভেলপার, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে আইন মানতে হবে। তিনি বলেন, গ্রিন বিল্ডিংয়ে প্রণোদনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনে অতিরিক্ত ফ্লোর স্পেস, ভবনের নকশায় সৌরবিদ্যুৎ এবং এক বিঘা জমিতে ১০ শতাংশ গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও নিরাপত্তা নিয়েও কাজ চলছে। কনক্লেভে বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসন খাত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।