জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে বিতর্কিত, অযোগ্য ও হাইব্রিড নেতাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে চাপে পড়েছে বিএনপি। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। দলীয় সূত্র বলছে, ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে কামাল জামান মোল্লার প্রার্থিতা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে দলটি।

যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, “এটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা। স্থায়ী কমিটি মনে করলে পরিবর্তন আসবে। প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে।”

অসন্তোষ বাড়ছে নানা আসনে

চট্টগ্রাম-২ আসনে ঋণখেলাপি সরওয়ার আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় অষ্টম শ্রেণি পাস এই নেতা অর্থবলেই প্রার্থী হয়েছেন বলে অভিযোগ।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে লায়ন আসলাম চৌধুরীর বদলে কাজী সালাহউদ্দিনকে প্রার্থী করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
গাজীপুর-৩ আসনে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে মনোনয়ন দেওয়ায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কারণ জনপ্রিয় নেতা আক্তারুল আলম মাস্টার বঞ্চিত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৫, নেত্রকোনা-৩, চাঁদপুর-২, চাঁদপুর-৪ ও গোপালগঞ্জ-২ আসনেও একই চিত্র—বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ ও আন্দোলনরত।

এস আলম ঘনিষ্ঠদের মনোনয়ন বিতর্ক

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠদেরও বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিএনপির শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদও। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে এখনো হাসিনার লোকজন সক্রিয়—কেউ এস আলমের মাধ্যমে, কেউ অন্যভাবে।”

কোন্দলে জটিলতা ৬৩ শূন্য আসনে

বিএনপি এখনও ৬৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এসব আসনের অনেকগুলোতেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র। সিলেট, মুন্সীগঞ্জসহ একাধিক আসনে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।

রেজা কিবরিয়া যোগ দিলেন বিএনপিতে

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান।

দলীয় সূত্র বলছে, মনোনয়ন–সংক্রান্ত এই বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে না পারলে অনেক আসন হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।