এবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ী দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজের বিরুদ্ধে প্রথম বারের মতো ইরানে তৈরি একটি ডেস্ট্রয়ার–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা বা আইএইএকে সতর্ক করেছে তেহরান।
টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মোহসেন রেজায়ী বলেন, ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রথম বারের মতো আমরা একটি আমেরিকান জাহাজের বিরুদ্ধে একটি ইরানি ডেস্ট্রয়ার–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাই। এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নরক তৈরি করেছিল এবং তারা পালিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবির সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে রোববার এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে তারা লিখেছে, ‘বিপ্লবী গার্ডদের জন্য বার্তা স্পষ্ট :যদি আপনারা আমাদের দুটি জাহাজে গুলি চালান, তাহলে আমরা আপনাদের ওপর আরো অনেক বেশি অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেব এবং আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করব’। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা আমেরিকান বাহিনীকে রক্ষা করতে দ্বিধা করব না এবং প্রয়োজন হলে ইরানের সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ তেলবাহী জাহাজের বহর ধ্বংস করব।’
বিপ্লবী গার্ডের সাবেক এই কমান্ডার ঐ অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বলেন, ইরানের সঙ্গে পরামর্শ না করে পরিচালিত জাহাজগুলোকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং সেগুলোকে অন্যান্য পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে বিমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরবর্তী সময়ে চলাচলে জটিলতা। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) ইউরোপীয় দেশগুলোর নতুন খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন পেলে পালটা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইউরোপীয় দেশগুলো এবং আইএইএ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পরিদর্শন চায়, বিশেষ করে যেসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে সেগুলোর। ঐ প্রস্তাব পাশ হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি করতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যখনই অন্য ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, তখন তারা পারমাণবিক ইস্যুকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে; অথবা উলটোভাবে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক নিজেই ইরানের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এমন অপব্যবহারের সুযোগ করে দেন। ইরান, চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সঠিক দাবি করে তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সংস্থাটির পক্ষে পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। –বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট 





















