কুমিল্লার দেবিদ্বারে বদিউল আলম বদু নামে এক আওয়ামী সমর্থককে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটকের পর বিএনপি পরিচয়ে ছেড়ে দিয়েছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে আটক হলেও শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে ফটোসেশন শেষে তাকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাঁচজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে বদিউল আলম বদুও ছিলেন। তবে শনিবার সকালে চারজনকে আদালতে পাঠানো হলেও বদিউল আলম বদুকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অনুরোধে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, বদিউল আলম বদুকে ছাড়াতে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি মহিউদ্দিন সরকার মাহফুজের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন বিএনপি নেতা থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বদিউল আলম বদু স্বৈরাচার সরকারের সময় থেকে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিউমার্কেটে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার কিছু ছবিতেও তার উপস্থিতি দেখা যায়। তার ছেলে জামির হোসেন সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যাকাণ্ড মামলার আসামি।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি মহিউদ্দিন সরকার মাহফুজ বলেন, “বদিউল আলম বদু আমাদের পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। সে আগে আওয়ামী লীগ করত কি না, তা জানা নেই। জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কমিটি করা হয়েছে, তখন কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে তার ছেলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত, এটা সত্য।”
দেবিদ্বার থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “বদিউল আলম বদু চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত বিএনপি ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তার একটি ছবি পাওয়া গেছে, তবে তিনি কোন পক্ষের ছিলেন তা নিশ্চিত নয়। তার ছেলেকে ঘিরে হত্যা মামলার তদন্ত চলায় বদুকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 




















