ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

লেবাননে ইসরাইলের হামলা যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে: ফ্রান্স

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

এবার লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের হামলা যুদ্ধবিরতির জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। খবর সিএনএন। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও কয়েক ঘণ্টা পরই রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।

ইসরাইলের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নিন্দা জানাল ফ্রান্স। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই প্রাণঘাতী হামলার মুখে ফ্রান্সের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, এই হামলাগুলো সদ্য হওয়া যুদ্ধবিরতিকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননকেও পুরোপুরি এই যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে হবে।তিনি জানান, একই বার্তা তিনি আজ আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকেও দিয়েছেন।

তিনি বলেনআমি তাদের দুজনকেই বলেছি, যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে ভালো হয়েছে। আমি আশা করি, সব পক্ষ সব জায়গায়লেবাননসহএই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলবে। তাহলেই এটি বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও মানতে চাইছে না ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না। নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে। ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিলেন যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়।

লেবাননে ইসরাইলের এই অব্যাহত হামলার কারণে এখন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শান্তি আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়াঅযৌক্তিকবলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরাইলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান এখন পাল্টা আঘাতের হুমকি দিচ্ছে।  ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে। গালিবাফ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

লেবাননে ইসরাইলের হামলা যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে: ফ্রান্স

আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের হামলা যুদ্ধবিরতির জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। খবর সিএনএন। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও কয়েক ঘণ্টা পরই রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।

ইসরাইলের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নিন্দা জানাল ফ্রান্স। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই প্রাণঘাতী হামলার মুখে ফ্রান্সের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, এই হামলাগুলো সদ্য হওয়া যুদ্ধবিরতিকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননকেও পুরোপুরি এই যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে হবে।তিনি জানান, একই বার্তা তিনি আজ আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকেও দিয়েছেন।

তিনি বলেনআমি তাদের দুজনকেই বলেছি, যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে ভালো হয়েছে। আমি আশা করি, সব পক্ষ সব জায়গায়লেবাননসহএই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলবে। তাহলেই এটি বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও মানতে চাইছে না ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না। নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে। ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিলেন যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়।

লেবাননে ইসরাইলের এই অব্যাহত হামলার কারণে এখন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শান্তি আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়াঅযৌক্তিকবলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরাইলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান এখন পাল্টা আঘাতের হুমকি দিচ্ছে।  ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে। গালিবাফ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।