ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামালপুরে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল যারা সার্কভুক্ত দেশগুলোর ঐক্য চায় না, তারা শুধু দুই দেশের ঐক্যের কথা বললে সন্দেহজনক: তথ্যমন্ত্রী যারা খেলা বোঝে তারা ব্রাজিল করে: অপু বিশ্বাস শিবিরের বর্তমান রাজনীতি হলো ধর্ষণ করে আত্মগোপনে গিয়ে গুমের নাটক সাজানো: রাশেদ খান ইসলাম ধর্মে দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াতে আমির খালে উল্টে পড়ল মাছভর্তি পিকআপ, চালককে ফেলে মাছ কুড়াতেই ব্যস্ত স্থানীয়রা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী কান্না সহ্য করতে না পেরে দুই মাসের শিশুকে আছাড় দিয়ে হত্যা, বাবা আটক বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান ভরসা এএন-৩২ বিমান বি’ধ্ব’স্ত

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র ‘মোতায়েন’ করল ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে ভারত তার পারমাণবিক নীতিতে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান অনুসরণ করে এসেছে। অস্ত্র ও তার উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে আলাদা রাখা ছিল সেই কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে আন্তর্জাতিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

 

স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইপিআরআই বলছে, ভারত প্রথমবারের মতো কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেডকে ‘মোতায়েনকৃত’ অবস্থায় রেখেছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে এমন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোকে কেবল মজুত অস্ত্র নয়, বরং কার্যকর সামরিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের পারমাণবিক প্রস্তুতির ধরনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এতদিন শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা রাখা হতো বলে ধারণা করা হলেও নতুন তথ্য বলছে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান কমছে।

 

এসআইপিআরআইর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন বহরের সম্প্রসারণ এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ দেশটির কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে। বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন—এই তিন স্তরের সমন্বয়ে গঠিত ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ শক্তিশালী করার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

 

তবে ভারতের সরকারি অবস্থানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। দেশটি এখনও ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি বহাল রেখেছে। অর্থাৎ, পারমাণবিক হামলার শিকার না হলে ভারত নিজে থেকে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের পথে যাবে না—এমন প্রতিশ্রুতি এখনো কার্যকর রয়েছে।

 

ভারত বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া নয়; বরং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা। তবে সাম্প্রতিক মোতায়েনসংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক ভারসাম্য কি ধীরে ধীরে নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে?

 

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র ‘মোতায়েন’ করল ভারত

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে ভারত তার পারমাণবিক নীতিতে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান অনুসরণ করে এসেছে। অস্ত্র ও তার উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে আলাদা রাখা ছিল সেই কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে আন্তর্জাতিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

 

স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইপিআরআই বলছে, ভারত প্রথমবারের মতো কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেডকে ‘মোতায়েনকৃত’ অবস্থায় রেখেছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে এমন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোকে কেবল মজুত অস্ত্র নয়, বরং কার্যকর সামরিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের পারমাণবিক প্রস্তুতির ধরনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এতদিন শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা রাখা হতো বলে ধারণা করা হলেও নতুন তথ্য বলছে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান কমছে।

 

এসআইপিআরআইর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন বহরের সম্প্রসারণ এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ দেশটির কৌশলগত সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে। বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন—এই তিন স্তরের সমন্বয়ে গঠিত ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ শক্তিশালী করার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

 

তবে ভারতের সরকারি অবস্থানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। দেশটি এখনও ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি বহাল রেখেছে। অর্থাৎ, পারমাণবিক হামলার শিকার না হলে ভারত নিজে থেকে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের পথে যাবে না—এমন প্রতিশ্রুতি এখনো কার্যকর রয়েছে।

 

ভারত বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া নয়; বরং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা। তবে সাম্প্রতিক মোতায়েনসংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক ভারসাম্য কি ধীরে ধীরে নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে?

 

সূত্র: এনডিটিভি