ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

গণভোটে যদি কোন মুসলমান যায় আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১৯৪ বার পড়া হয়েছে

 

দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতভেদের মধ্যে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও জৈনপুরী পীর ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী গণভোট বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান গণভোট বাংলাদেশের জন্য অশুভ সংকেত এবং এটি নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল, যা দেশকে অরাজকতা ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সম্প্রতি এক ধর্মীয় আলোচনায় ড. আব্বাসী বলেন, “বর্তমান গণভোটের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন বিলম্বিত করা, যা সামরিক শাসনের পথ প্রশস্ত করবে এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এতে সন্ত্রাস ও সহিংসতার আগুনে দেশ দগ্ধ হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করে উল্লেখ করেন, দেশের ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীরা আন্তর্জাতিক স্বার্থের সঙ্গে মিলিয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ খুঁজছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ড. আব্বাসী ইতিহাসের উদাহরণ টানতে গিয়ে বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা দাবির গণভোট করেছিলেন, যার মাধ্যমে সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধকে সংহত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই নীতি বাদ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা মুসলমানদের ঈমানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি গণভোটের মাধ্যমে এমন কোনো সংবিধান বা সনদ অনুমোদিত হয় যেখানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বাদ দেওয়া হয়, তবে কোনো মুসলমানের উচিত নয় সেখানে অংশ নেওয়া। এটি ঈমানের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহির কারণ হতে পারে।”

সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গেও ড. আব্বাসী উল্লেখ করেছেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত রাজনৈতিক দল গণভোটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা পরে পরিবর্তনযোগ্য।

ড. আব্বাসী বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী—গণভোট বা সামরিক শাসনের পর কখনো স্থিতিশীলতা আসেনি, বরং বিভাজন বেড়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের এখন মহান আল্লাহর ভয় করা উচিত। যারা সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বাদ দিতে চায়, তারা প্রকৃত অর্থে জাতির শত্রু।”

শেষে তিনি দেশের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন সত্যবাদীদের পাশে দাঁড়াতে এবং সঠিক পথে অবলম্বন করতে, কারণ এই সময়টি হচ্ছে আমাদের ঈমান, দেশ ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

গণভোটে যদি কোন মুসলমান যায় আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে

আপডেট সময় ১১:৪৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

 

দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতভেদের মধ্যে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও জৈনপুরী পীর ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী গণভোট বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান গণভোট বাংলাদেশের জন্য অশুভ সংকেত এবং এটি নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল, যা দেশকে অরাজকতা ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সম্প্রতি এক ধর্মীয় আলোচনায় ড. আব্বাসী বলেন, “বর্তমান গণভোটের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন বিলম্বিত করা, যা সামরিক শাসনের পথ প্রশস্ত করবে এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এতে সন্ত্রাস ও সহিংসতার আগুনে দেশ দগ্ধ হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করে উল্লেখ করেন, দেশের ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীরা আন্তর্জাতিক স্বার্থের সঙ্গে মিলিয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ খুঁজছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ড. আব্বাসী ইতিহাসের উদাহরণ টানতে গিয়ে বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা দাবির গণভোট করেছিলেন, যার মাধ্যমে সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধকে সংহত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই নীতি বাদ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা মুসলমানদের ঈমানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি গণভোটের মাধ্যমে এমন কোনো সংবিধান বা সনদ অনুমোদিত হয় যেখানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বাদ দেওয়া হয়, তবে কোনো মুসলমানের উচিত নয় সেখানে অংশ নেওয়া। এটি ঈমানের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহির কারণ হতে পারে।”

সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গেও ড. আব্বাসী উল্লেখ করেছেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত রাজনৈতিক দল গণভোটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা পরে পরিবর্তনযোগ্য।

ড. আব্বাসী বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী—গণভোট বা সামরিক শাসনের পর কখনো স্থিতিশীলতা আসেনি, বরং বিভাজন বেড়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের এখন মহান আল্লাহর ভয় করা উচিত। যারা সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বাদ দিতে চায়, তারা প্রকৃত অর্থে জাতির শত্রু।”

শেষে তিনি দেশের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন সত্যবাদীদের পাশে দাঁড়াতে এবং সঠিক পথে অবলম্বন করতে, কারণ এই সময়টি হচ্ছে আমাদের ঈমান, দেশ ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা।