ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তানজিন আহমেদ মিঠু (সহ-সভাপতি, উত্তর জেলা ছাত্রদল) নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মিঠুর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না; ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

সংঘর্ষে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন। মনোনয়ন না পাওয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তায়েবুর রহমান হিরনের সমর্থকরা এ নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। রবিবার বিকালে একই সময়ে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষে মঞ্চ, চেয়ার, মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি দুটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই নিজেদের অন্তত ৩০ ও ১০ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে।

এর আগে শনিবার রাতে ইকবাল হোসেনের সমর্থক ও উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাপুর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে হিরনের সমর্থকরা। পরে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪০টি রামদাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন শামীম (২৯), মামুন (২৫), হাবিব (১৯) ও আফাজ (২২)— সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন বলেন, “যে বা যারাই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, “সংঘর্ষে আহত তানজিন আহমেদ মিঠুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।”