ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মাগুরা থেকেই নির্বাচন করতে চান সাকিব! নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি, ভাঙচুর ঋণখেলাপি: হাসনাতের আসনে নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গ্রেপ্তারের তিনদিনে বিচার শেষ, আজ হবে সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব: সালাহউদ্দিন আহমদ ইরানে বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারদের দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার প্রধান বিচারপতির তুরস্কের সামরিক শক্তি-সৌদির অর্থ-পাকিস্তানের পারমাণবিক মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই: মির্জা আব্বাস সাহস থাকলে আইনের মুখোমুখি হক, বিদেশ থেকে হুমকির কোনো ভ্যালু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ২০

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬০৩ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের (জামায়াতসহ) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার রামাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় তারা বিএনপির এক নেতার বাড়িতে গেলে সেখানে থাকা বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারীকর্মীদের একজনের স্বামী ও জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

 

খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালসহ উভয় দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

 

তবে সন্ধ্যার পর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

এ ঘটনায় বিএনপির ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম মাস্টার, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন নান্নু, নুরনবী, বসির, ইমন, হৃদয়সহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, সমঝোতার পর ফিরে আসার সময় আমাদের দলের ওপর হামলা চালানো হয়।

 

 

অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বিএনপির কর্মীরা আমাদের গণসংযোগে বাধা দিচ্ছে। আজ নারী কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালিগালাজের পর পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় জামায়াত নেতা সোলাইমান জমদার ও আবু জাফরসহ ১১ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

 

খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় ১২:৫০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের (জামায়াতসহ) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার রামাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় তারা বিএনপির এক নেতার বাড়িতে গেলে সেখানে থাকা বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারীকর্মীদের একজনের স্বামী ও জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

 

খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালসহ উভয় দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

 

তবে সন্ধ্যার পর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

এ ঘটনায় বিএনপির ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম মাস্টার, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন নান্নু, নুরনবী, বসির, ইমন, হৃদয়সহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, সমঝোতার পর ফিরে আসার সময় আমাদের দলের ওপর হামলা চালানো হয়।

 

 

অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বিএনপির কর্মীরা আমাদের গণসংযোগে বাধা দিচ্ছে। আজ নারী কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালিগালাজের পর পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় জামায়াত নেতা সোলাইমান জমদার ও আবু জাফরসহ ১১ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

 

খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।