ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সার ব্যবস্থাপনায় মতিউর রহমান নিজামীর সময়ের দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জুয়ার আসরে বিএনপি নেতা ও হিসাবরক্ষকের ভিডিও ভাইরাল পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের বিয়ের আগের দিন মা-বাবা নিহত রুমিন ফারহানা কি গালি দিলেন, নাকি দোয়া দিলেন: জামায়াত আমির অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্রের আদলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে হট্টগোল বিতরণের আগেই সরকারি ত্রাণের মেয়াদ শেষ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দরিদ্ররা সরকারও মনে হয় আশির দশকে ফেরত যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম লোডশেডিংয়ের সুযোগে ট্রান্সফরমার চুরি: ৬৫ দিনে গায়েব ২৬টি, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, তা হতে পারে না

স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চার সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, নিহত ৫

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • ২১৩২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের ফরিদাবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। স্ত্রী প্রিয়ার সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে মনোজ মাহাতো (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিজের চার শিশু সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ফরিদাবাদের একটি ফ্লাইওভারের নিচে রেললাইনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মনোজ মাহাতো প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চার ছেলেকে নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হঠাৎ করে চার সন্তানকে নিয়ে লাইনের ওপর উঠে দাঁড়ান এবং শক্ত করে ধরে রাখেন। আতঙ্কিত পথচারীরা চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি। শিশুরাও বাবার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি কাউকে যেতে দেননি।

এরপর দ্রুতগতিতে ছুটে আসা গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেস ট্রেন পাঁচজনকে একসঙ্গে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন মনোজ মাহাতো এবং তার চার সন্তান—পবন (১০), কারু (৯), মুরলি (৫) এবং ছোটু (৩)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেনচালক একাধিকবার হুইসেল বাজিয়ে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মনোজ নড়েননি।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। মনোজের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে তার স্ত্রীর ফোন নম্বর লেখা ছিল। রেলওয়ে পুলিশ অফিসার রাজপাল জানান, মনোজ তার স্ত্রীর ওপর পরকীয়ার সন্দেহ করতেন এবং প্রায়ই ঝগড়া করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সন্দেহই তাকে এমন ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে।

সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, চার সন্তানকে পার্কে নিয়ে যাচ্ছেন। পথে শিশুদের চিপস ও কোমল পানীয় কিনে খাওয়ানও তিনি। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সার ব্যবস্থাপনায় মতিউর রহমান নিজামীর সময়ের দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান

স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চার সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, নিহত ৫

আপডেট সময় ০৯:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

ভারতের ফরিদাবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। স্ত্রী প্রিয়ার সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে মনোজ মাহাতো (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিজের চার শিশু সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ফরিদাবাদের একটি ফ্লাইওভারের নিচে রেললাইনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মনোজ মাহাতো প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চার ছেলেকে নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হঠাৎ করে চার সন্তানকে নিয়ে লাইনের ওপর উঠে দাঁড়ান এবং শক্ত করে ধরে রাখেন। আতঙ্কিত পথচারীরা চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি। শিশুরাও বাবার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি কাউকে যেতে দেননি।

এরপর দ্রুতগতিতে ছুটে আসা গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেস ট্রেন পাঁচজনকে একসঙ্গে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন মনোজ মাহাতো এবং তার চার সন্তান—পবন (১০), কারু (৯), মুরলি (৫) এবং ছোটু (৩)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেনচালক একাধিকবার হুইসেল বাজিয়ে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মনোজ নড়েননি।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। মনোজের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে তার স্ত্রীর ফোন নম্বর লেখা ছিল। রেলওয়ে পুলিশ অফিসার রাজপাল জানান, মনোজ তার স্ত্রীর ওপর পরকীয়ার সন্দেহ করতেন এবং প্রায়ই ঝগড়া করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সন্দেহই তাকে এমন ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে।

সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, চার সন্তানকে পার্কে নিয়ে যাচ্ছেন। পথে শিশুদের চিপস ও কোমল পানীয় কিনে খাওয়ানও তিনি। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।