ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রামিসার বাবাকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির এআই ভিডিও সহজে শনাক্তে বড় পরিবর্তন আনছে ইউটিউব, আসছে স্বয়ংক্রিয় লেবেলিং ব্যবস্থা ঝুলন্ত চেয়ারে বসিয়ে সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা বিএনপির কার্যালয়সহ ১৫ বাড়িতে আ.লীগ নেতাকর্মীদের ভাঙচুর-লুটপাট ট্রাম্পের দেওয়া চুক্তির সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করল ইরান বাধ্য হয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধনের ডাক রুমিন ফারহানার ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের তীব্র নিন্দা ‘প্রধানমন্ত্রীর অল্প বয়স, এখনো বুদ্ধি পাকা হয় নাই’- বক্তব্য দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে শোকজ মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ দেশের ইতিহাসে বিরল: সর্ব মিত্র

তারেক-ইউনূস বৈঠকে নজর দেশবাসীর: নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনার বিষয়ে হতে পারে সমঝোতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • ৭৪৭ বার পড়া হয়েছে

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়সীমা ঘোষণার পর। তিনি বলেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সময়সীমা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি, যারা শুরু থেকেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে আসছিল।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার লন্ডনে ডরচেস্টার হোটেলে ড. ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার ‘ওয়ান টু ওয়ান’ এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু আলোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপির আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হবে নির্বাচনের সময়সূচি এগিয়ে আনা। সরকার যদি এপ্রিল থেকে সরে আসে, বিএনপিও ডিসেম্বর থেকে সরে এসে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে গ্রহণযোগ্য সময় হিসেবে বিবেচনায় আনতে পারে।

এছাড়া আলোচনা হতে পারে—

  • চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা,

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা,

  • জুলাই চার্টার’ বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাব,

  • নির্বাচন-পরবর্তী সংসদে অন্তর্বর্তী কার্যক্রমের অনুমোদন,

  • বিচারিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ইত্যাদি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,

“এই ঐতিহাসিক আলোচনা সফল না হলে বহু সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সমঝোতা হবে এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

“আলোচনায় যাচ্ছি, এটাই বড় বিষয়। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত চুপ থাকাটাই শ্রেয়।”

জনগণের প্রত্যাশা, এই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুলবে, এবং দেশ একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনমুখী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসার বাবাকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির

তারেক-ইউনূস বৈঠকে নজর দেশবাসীর: নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আনার বিষয়ে হতে পারে সমঝোতা

আপডেট সময় ০৭:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময়সীমা ঘোষণার পর। তিনি বলেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সময়সীমা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি, যারা শুরু থেকেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে আসছিল।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার লন্ডনে ডরচেস্টার হোটেলে ড. ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার ‘ওয়ান টু ওয়ান’ এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু আলোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপির আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হবে নির্বাচনের সময়সূচি এগিয়ে আনা। সরকার যদি এপ্রিল থেকে সরে আসে, বিএনপিও ডিসেম্বর থেকে সরে এসে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে গ্রহণযোগ্য সময় হিসেবে বিবেচনায় আনতে পারে।

এছাড়া আলোচনা হতে পারে—

  • চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা,

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা,

  • জুলাই চার্টার’ বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাব,

  • নির্বাচন-পরবর্তী সংসদে অন্তর্বর্তী কার্যক্রমের অনুমোদন,

  • বিচারিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ইত্যাদি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,

“এই ঐতিহাসিক আলোচনা সফল না হলে বহু সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সমঝোতা হবে এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

“আলোচনায় যাচ্ছি, এটাই বড় বিষয়। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত চুপ থাকাটাই শ্রেয়।”

জনগণের প্রত্যাশা, এই আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুলবে, এবং দেশ একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনমুখী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।