দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বেইমানি করলে তার কোনো ক্ষমা নেই, সোজা ফাঁসি। ইরানে এটাই রীতি। সেই সূত্রে, আরও চার নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উর্মিয়া আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচার করেছেন।
নতুন মৃত্যুদণ্ডের কারণ
ইরানের উত্তর-পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি নাসের আতাবাতি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, দণ্ডিত এই চার ব্যক্তি দেশের স্পর্শকাতর স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ইসরায়েল সরকারের কাছে পাচার করেছিলেন। ইরানি আদালত জানিয়েছে, তারা বিশেষ সিম ও সেলফোন ব্যবহার করে মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ইরানে ইসরায়েলের হামলার জন্য সমন্বয়ের কাজ করতেন। তারা শুধু রাজধানী তেহরান নয়, বরং উর্মিয়া, শাহরুদ ও ইসফাহানের মতো শহরের তথ্যও পাচার করেছিলেন এবং বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পারিশ্রমিক পেতেন। নাসের আতাবাতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সঙ্গে বেইমানি করা ব্যক্তিদের ইরানের বিচার বিভাগ কোনো ছাড় দেবে না।
পূর্ববর্তী মৃত্যুদণ্ড ও মোসাদের কৌশল
এর আগে গত ৬ আগস্ট, পরমাণু বিজ্ঞানীদের তথ্য ইসরায়েলে পাচার ও গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে রুসবেহ বাদী নামের এক গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি গত জুনে ইরানের উপর ইসরায়েলের হামলায় নিহত একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।
বাদী ইরানের একটি সংবেদনশীল সংস্থায় কাজ করতেন। তদন্তে জানা যায়, ‘আলেক্স’ নামের এক মোসাদ কর্মকর্তা প্রথমে বাদীর পরিচয় যাচাই করেন এবং পরে ‘কেভিন’ নামের আরেক কর্মকর্তা তাকে নিয়োগ দেন। এরপর বাদী নিয়মিতভাবে মোসাদের জন্য তথ্য সরবরাহ করতে থাকেন এবং মাসিক ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ পেতেন। মোসাদ তাকে সুরক্ষিত যোগাযোগের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণও দিয়েছিল।
গুপ্তচরবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ইরানীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কমপক্ষে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ জুন তিনজন মোসাদ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান। তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চোরাচালানের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে থেকেই মোসাদের এসব গুপ্তচর ইরানে পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে নাশকতার মতো কাজগুলোতে সহায়তা করত।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















