ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি: ইরানে আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২১৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বেইমানি করলে তার কোনো ক্ষমা নেই, সোজা ফাঁসি। ইরানে এটাই রীতি। সেই সূত্রে, আরও চার নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উর্মিয়া আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচার করেছেন।

 

নতুন মৃত্যুদণ্ডের কারণ

ইরানের উত্তর-পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি নাসের আতাবাতি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, দণ্ডিত এই চার ব্যক্তি দেশের স্পর্শকাতর স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ইসরায়েল সরকারের কাছে পাচার করেছিলেন। ইরানি আদালত জানিয়েছে, তারা বিশেষ সিম ও সেলফোন ব্যবহার করে মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ইরানে ইসরায়েলের হামলার জন্য সমন্বয়ের কাজ করতেন। তারা শুধু রাজধানী তেহরান নয়, বরং উর্মিয়া, শাহরুদ ও ইসফাহানের মতো শহরের তথ্যও পাচার করেছিলেন এবং বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পারিশ্রমিক পেতেন। নাসের আতাবাতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সঙ্গে বেইমানি করা ব্যক্তিদের ইরানের বিচার বিভাগ কোনো ছাড় দেবে না।

 

 

 

পূর্ববর্তী মৃত্যুদণ্ড ও মোসাদের কৌশল

এর আগে গত ৬ আগস্ট, পরমাণু বিজ্ঞানীদের তথ্য ইসরায়েলে পাচার ও গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে রুসবেহ বাদী নামের এক গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি গত জুনে ইরানের উপর ইসরায়েলের হামলায় নিহত একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।

 

বাদী ইরানের একটি সংবেদনশীল সংস্থায় কাজ করতেন। তদন্তে জানা যায়, ‘আলেক্স’ নামের এক মোসাদ কর্মকর্তা প্রথমে বাদীর পরিচয় যাচাই করেন এবং পরে ‘কেভিন’ নামের আরেক কর্মকর্তা তাকে নিয়োগ দেন। এরপর বাদী নিয়মিতভাবে মোসাদের জন্য তথ্য সরবরাহ করতে থাকেন এবং মাসিক ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ পেতেন। মোসাদ তাকে সুরক্ষিত যোগাযোগের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণও দিয়েছিল।

 

গুপ্তচরবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি

ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ইরানীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কমপক্ষে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ জুন তিনজন মোসাদ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান। তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চোরাচালানের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে থেকেই মোসাদের এসব গুপ্তচর ইরানে পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে নাশকতার মতো কাজগুলোতে সহায়তা করত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি: ইরানে আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বেইমানি করলে তার কোনো ক্ষমা নেই, সোজা ফাঁসি। ইরানে এটাই রীতি। সেই সূত্রে, আরও চার নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উর্মিয়া আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচার করেছেন।

 

নতুন মৃত্যুদণ্ডের কারণ

ইরানের উত্তর-পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি নাসের আতাবাতি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, দণ্ডিত এই চার ব্যক্তি দেশের স্পর্শকাতর স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ইসরায়েল সরকারের কাছে পাচার করেছিলেন। ইরানি আদালত জানিয়েছে, তারা বিশেষ সিম ও সেলফোন ব্যবহার করে মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ইরানে ইসরায়েলের হামলার জন্য সমন্বয়ের কাজ করতেন। তারা শুধু রাজধানী তেহরান নয়, বরং উর্মিয়া, শাহরুদ ও ইসফাহানের মতো শহরের তথ্যও পাচার করেছিলেন এবং বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পারিশ্রমিক পেতেন। নাসের আতাবাতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সঙ্গে বেইমানি করা ব্যক্তিদের ইরানের বিচার বিভাগ কোনো ছাড় দেবে না।

 

 

 

পূর্ববর্তী মৃত্যুদণ্ড ও মোসাদের কৌশল

এর আগে গত ৬ আগস্ট, পরমাণু বিজ্ঞানীদের তথ্য ইসরায়েলে পাচার ও গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে রুসবেহ বাদী নামের এক গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি গত জুনে ইরানের উপর ইসরায়েলের হামলায় নিহত একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।

 

বাদী ইরানের একটি সংবেদনশীল সংস্থায় কাজ করতেন। তদন্তে জানা যায়, ‘আলেক্স’ নামের এক মোসাদ কর্মকর্তা প্রথমে বাদীর পরিচয় যাচাই করেন এবং পরে ‘কেভিন’ নামের আরেক কর্মকর্তা তাকে নিয়োগ দেন। এরপর বাদী নিয়মিতভাবে মোসাদের জন্য তথ্য সরবরাহ করতে থাকেন এবং মাসিক ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ পেতেন। মোসাদ তাকে সুরক্ষিত যোগাযোগের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণও দিয়েছিল।

 

গুপ্তচরবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি

ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ইরানীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কমপক্ষে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ জুন তিনজন মোসাদ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান। তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যা এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চোরাচালানের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে থেকেই মোসাদের এসব গুপ্তচর ইরানে পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে নাশকতার মতো কাজগুলোতে সহায়তা করত।