আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের ভোটের রাজনীতি এরই মধ্যে জমে উঠেছে। নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হলেও ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন প্রায় সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। পাড়া-মহল্লায় এখন ভোটারদের আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে কে পাচ্ছেন কোন দলের টিকিট। ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ, চুলচেরা বিশ্লেষণ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। একাধিক গ্রুপে বিভক্ত বিএনপিতে ডজনখানেক প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে তৎপর। মনোনয়ন লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের ৩১ দফা প্রচার করছেন জোরেশোরে। তারা নিয়মিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

জামায়াতে ইসলামী প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পাওয়ায় দলের প্রচারেও ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ফলে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে দলটির চ্যালেঞ্জ হবে জামায়াত। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করায় একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে দলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে, প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও দেখেশুনে এগোচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত, কেন্দ্রীয় সদস্য, প্রচার ও প্রকাশনা সেল সম্পাদক আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) বলেন, আমরা গুছিয়ে নিতে একটু সময় নিচ্ছি। অতি শীঘ্রই জেলার তিনটি আসনে এনসিপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতো গতানুগতিক ধারায় প্রার্থী দেওয়া হবে না। এমন প্রার্থী বাছাই করা হবে, যারা জনবান্ধব হবে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে উন্নয়নে কাজ করবে।

অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে সদর আসনে ইতোমধ্যে দলের জেলা কমিটির সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। বাকি দুটি আসনে কারও নাম না জানা গেলেও চমক আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তবে প্রতিটি উপজেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা চাঁপাইনবাগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯১ সাল থেকে গত সাতবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমানে সমান বিজয়ী হয়েছে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সেই নির্বাচনে তৎকালীন নবাবগঞ্জ আজকের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ আসনে প্রার্থী ছিলেন তিনজন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মইনউদ্দিন আহমেদ মন্টু প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের ডা. মইনউদ্দিন আহমেদ মন্টু। এরপর ১৯৯১ সালে বিএনপির অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, একই সালের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে টানা পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা সংসদ সদস্য থাকলেও পরের চার মেয়াদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদল হয়েছে তিনবার।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। এখানে ধানের শীষের টিকিট পেতে এখন পর্যন্ত তিন জনের নাম শোনা গেলেও বিগত সতেরো বছর থেকে মাঠে আছেন শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। স্থানীয় নেতাদের মতে, শাহজহান মিঞা দলের দুর্দিনে সবসময় কর্মীদের পাশে ছিলেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য দুজনের মধ্যে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত মাঝেমধ্যে এলাকায় আসেন। আরেকজন বিএনপি নেতা বেলাল ই বাদী ইদ্রিশীকে শুধু নির্বাচনী মৌসুমে দেখা যায় বলে জানান তৃণমূলের কর্মীরা।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, শিবগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি। এ আসনে দলের প্রার্থী কে হবেন, তা প্রায় চূড়ান্ত। তাই কর্মীরা অনেকটা নির্ভার। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক শাহজাহান মিঞাই হবেন বিএনপির প্রার্থী।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সাবেক এমপি শাহজাহান মিঞা বলেন, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। শিবগঞ্জ বিএনপির দুর্গ। মনোনয়ন পেলে এ আসনে অতীতের মতো আমি আবারও জয়ী হব বলে আশাবাদী। তিনি বলেন, বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমাকে জোর করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। আমাকে মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এরপরেও নেতা কর্মীদের সুসংগঠিত করে দলের নির্দেশনা মেনে কর্মকা- পরিচালনা করছি। ভোটের জন্য প্রস্তুত আমরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এ আসনের প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী মহানগর আমীর ড. কেরামত আলীর নাম ঘোষণা করেছে। তিনি এর আগে দু’বার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিও জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ায় আশাবাদী জামায়াত নেতারা। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এ আসনে বিএনপি থেকে শাহজাহান মিঞা মনোনয়ন পেলে জামায়াতের প্রার্থী কেরামত আলীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। শাহজাহান মিঞা পাঁচবার এমপি ও কেরামত আলী দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান থাকলেও দুজনেরই ক্লিন ইমেজ রয়েছে এলাকায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) ॥ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২। নির্বাচনী এলাকা নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট নিয়ে গঠিত আসনটি এককভাবে কোনো রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন দখলে রাখতে পারেনি। তবে এখানে বিএনপির আধিপত্যই বেশি।

এ আসনে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সেই নির্বাচনে তৎকালীন নবাবগঞ্জ আজকের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট আসনটিও ছিল রাজশাহীর অধীনে। এই আসনে আওয়ামী লীগের খালেদ আলী মোহাম্মদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন হয় ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। এ সময় বিএনপি গঠন হলে সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন ন্যাপ ত্যাগ করে এ দলে যোগ দেন। নির্বাচনে তিনি ২৬ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মীম ওবায়দুল্লাহ ২০ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে মাত্র ৫৭ ভোটে হেরে যান আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফসার আলী। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন। ১৯৯৬ সালে আবারও নির্বাচিত হন বিএনপির সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ৮৬ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে আবারও নির্বাচিত হন বিএনপির সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন। এরপরের চার মেয়াদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদল হয় দুবার।

২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসন আবারও বিএনপির দখলে গেলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। যা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। এবারও তিনি মনোনয়ন চান, যদিও তৃণমূলে তার অবস্থান ভালো নয়। আড়ালে দলের অনেকে তাকে রাজনৈতিক ব্যবসায়ী বলে থাকেন।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কয়েকমাস পর আব্দুস সালাম তুহিন নামে আরেক বিএনপি নেতা মনোনয়ন চেয়ে হঠাৎ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। আমিনুল-তুহিনসহ আরও প্রায় আটজন ছাড়াও রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহম্মেদ ও জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হকও (শুচি) এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চান।

এ আসনের তৃণমূলের একটা বৃহৎ অংশ আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের কা-ারী হিসেবে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শুচিকেই চাইছেন। কারণ হিসেবে তাদের বক্তব্য, গত পৌর নির্বাচনে নাচোলে নির্বাচিত হলেও তাকে ইলেকশন ইঞ্জিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে। ২০১৮ এর নির্বাচনে আমিনুল ইসলামের চেয়ে তিনিই সবচেয়ে বেশি মাঠে সরব ছিলেন ধানের শীষকে বিজয়ী করতে। সে নির্বাচনের পর তিনি নানা ভাবে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকারও হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

মনোনয়নপ্রত্যাশী আফরোজ হক শুচি বলেন, আমরা তিন উপজেলায় দলের নির্যাতিত, মামলা-হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি ও কেন্দ্রের নির্দেশা অনুযায়ী কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে দল অবশ্যই আমাকে বিবেচনা করবে বলে আমি মনে করি।

বিএনপির ঘাঁটি হলেও এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবও কম নয়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত এ আসনটি পেয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হবেন ড. মিজানুর রহমান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৭৩ সালের পর অধিকাংশ সময় এই আসন বিএনপির দখলে থাকায় এটি পরিচিতি পায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে। তবে, ১৯৯১ সালে জয়ী হয় জামায়াত। ২০০৮ সালে এখানে জামায়াত-বিএনপি জোটবদ্ধ নির্বাচন না করায় ১৯৭৩ সালের পর এই আসনে প্রথম জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও এ আসন ধরে রাখে তারা। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির কাছে আসনটি হারায়। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে উপ-নির্বাচনে আসনটি আবার দখলে আসে আওয়ামী লীগের। বিগতদিনের ধারাবাহিকতায় আগামী সংসদ নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখতে চায় বিএনপি।

আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম (চাইনিজ) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ।

তবে, বর্তমানে এ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে। এখানে দৃশ্যমান তিনটি গ্রুপে বিভক্ত বিএনপি। এক গ্রুপ হারুনুর রশীদের। ২০১৮ এর নির্বাচনের পরে এ আসনে হারুনের বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য তার মত ও অনুসারীদের না নিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এরমধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে হারুনুর রশীদের প্রায় দুই দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটে। অন্যদুটি গ্রুপের একটি জেলা আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও আরেকটি রফিকুল ইসলাম (চাইনিজ) নিয়ন্ত্রণ করেন।

অভ্যন্তরীণ এ কোন্দল বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, দলের ভেতরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, একাধিক গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং কিছু নেতার ‘নিজস্ব বলয়’ গড়ে তোলার প্রবণতা জটিল করে তুলেছে বিএনপির রাজনীতিকে। তবে দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে।

অন্যদিকে, এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার ইমেজ বেড়েছে বিগত দিনের চেয়ে কয়েকগুণ। বুলবুল প্রতিনিয়তই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ করেছেন এবং অসহায়দের কল্যাণে হাত বাড়িয়েছেন বলে দাবি দলটির নেতাকর্মীদের।

জামায়াতের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়েছে। সাধারণ মানুষ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত একটি নির্বাচন দেখতে চায়। জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক দল। জামায়াত মানুষকে নিয়ে কাজ করে। তৃণমূল পর্যন্ত জামায়াতের সংগঠন রয়েছে। আগামী নির্বাচনে জনগণ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে রায় দেবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে আমাকে ও হারুনুর রশীদকে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে হারুন নির্বাচন করেন। আমরা মনে করি জনগণ নতুন নেতৃত্ব চায়। জনগণের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেই বিবেচনায় দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদী।