ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক মমতাকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে উত্তেজনা, ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংঘাত হতে পারে: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের লাশ হয়ে ফিরলেন মেজরসহ ৫ পাকিস্তানি সেনা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল, জয় বাংলা স্লোগানে বিদায় ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ‘থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে দেড় থেকে দ্বিগুণ’ স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চীনের সহায়তায় বন্ধ কারাখানা চালু করতে চায় সরকার: শিল্পমন্ত্রী

মমতাকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে উত্তেজনা, ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার মামলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন জানান তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত চত্বরে তাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সকালে কালো গাউন পরে আদালতে পৌঁছান মমতা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাইকোর্টে তার উপস্থিতি অনেককেই বিস্মিত করে। শুনানিতে অংশ নিয়ে মমতা বলেন, তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত এবং সেই পরিচয়েই আদালতে সওয়াল করতে চান। পরে উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, বাংলা। বাংলার মানুষকে বাঁচান।’

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভিন্ন জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। গত ১২ মে তৃণমূল কংগ্রেস আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে, প্রায় ২ হাজার তৃণমূল সমর্থক শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। ৩৬৫টির বেশি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর বা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন।

সেই মামলার শুনানিতে মমতা দাবি করেন, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে তরুণ দম্পতি— অনেককেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। তপশিলি জাতি ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মমতা। আদালতের কাছে তার আবেদন ছিল, রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই মামলায় সিপিআইএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও সওয়াল করেন। নিউ মার্কেট এলাকায় হকারদের অস্থায়ী দোকান ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের পক্ষে আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নিউ মার্কেটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও দেন তিনি। এদিকে আদালতের ভেতরে শুনানি চলাকালেই বাইরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। শুনানি শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন আইনজীবীদের একাংশ ও উপস্থিত কিছু মানুষ।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মমতা ও তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মমতা আদালতে বলেন, ‘দেখুন বাইরের অবস্থা, এখান থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।’ প্রধান বিচারপতি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। পরে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের সহায়তায় আদালত এলাকা ত্যাগ করেন তৃণমূল নেত্রী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক

মমতাকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে উত্তেজনা, ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান

আপডেট সময় ০৩:১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার মামলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন জানান তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত চত্বরে তাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সকালে কালো গাউন পরে আদালতে পৌঁছান মমতা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাইকোর্টে তার উপস্থিতি অনেককেই বিস্মিত করে। শুনানিতে অংশ নিয়ে মমতা বলেন, তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত এবং সেই পরিচয়েই আদালতে সওয়াল করতে চান। পরে উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, বাংলা। বাংলার মানুষকে বাঁচান।’

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভিন্ন জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। গত ১২ মে তৃণমূল কংগ্রেস আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে, প্রায় ২ হাজার তৃণমূল সমর্থক শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। ৩৬৫টির বেশি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর বা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন।

সেই মামলার শুনানিতে মমতা দাবি করেন, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে তরুণ দম্পতি— অনেককেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। তপশিলি জাতি ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মমতা। আদালতের কাছে তার আবেদন ছিল, রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই মামলায় সিপিআইএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও সওয়াল করেন। নিউ মার্কেট এলাকায় হকারদের অস্থায়ী দোকান ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের পক্ষে আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নিউ মার্কেটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও দেন তিনি। এদিকে আদালতের ভেতরে শুনানি চলাকালেই বাইরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। শুনানি শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন আইনজীবীদের একাংশ ও উপস্থিত কিছু মানুষ।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মমতা ও তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মমতা আদালতে বলেন, ‘দেখুন বাইরের অবস্থা, এখান থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।’ প্রধান বিচারপতি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। পরে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের সহায়তায় আদালত এলাকা ত্যাগ করেন তৃণমূল নেত্রী।