ঝিনাইদহের মহেশপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় মাকে ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে এখলাচুর রহমানের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মায়ের পাশের ঘরেই গিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সখের বানু ওই এলাকার মৃত জেকের আলীর স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের সহায়তায় জীবিকা নির্বাহ করতেন সখের বানু। পাঁচ সন্তানের মধ্যে এখলাচুর ছিলেন সবার বড়।

একসময় ইটভাটার ট্রাক্টর চালালেও পরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এখলাচুর। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে একপর্যায়ে কাজকর্মও ছেড়ে দেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চান এখলাচুর। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান সখের বানু। পরে রাতের কোনো একসময় ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে মাকে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। এরপর মায়ের পাশের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েন।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা এখলাচুরকে আটক করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, এখলাচুর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে বাবার সঙ্গেও তিনি মারধরের ঘটনায় জড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মায়ের কাছে নেশার টাকা না পেয়ে এখলাচুর তাকে হত্যা করেছেন।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এখলাচুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।