এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তার মতে, এআই সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে মুসলিম সমাজ ‘পরাধীন’ হয়ে পড়তে পারে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে মুসলিমরা বাইরের শক্তির প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে কারান্থুরের মারকাজু সাকাফাথি সুন্নিয়ায় শেখ আবুবকর ফাউন্ডেশনের চালু করা প্রথম ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আনোয়ার বলেন, ধর্মীয় আলেমদের বর্তমান সময়ের ‘নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ বুঝতে হবে। এর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে।
তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্ঞান দরকার। আমাদের দক্ষতা দরকার’। একই সঙ্গে মুসলিম সমাজকে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রযুক্তির উন্নয়ন যেন তাদের ‘ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধ’ রক্ষা করে। আনোয়ার সতর্ক করে বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন কিছু মূল্যবোধ মুসলিম সমাজে ঢ়ুকে পড়তে পারে, যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে এবং সেগুলো কীভাবে তৈরি ও পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা না থাকলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা এর ঝুঁকি নিয়ে ক্রমবর্ধমান আলোচনা করলেও মুসলিম আলেম ও সমাজগুলো এআইয়ের চ্যালেঞ্জের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না।
এসময় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআই নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রগতি যেন জ্ঞান, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর রোববার কেরালা সফরে যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















