ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘তারেক রহমান আসলেও কাজ হবে না’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নেতাকে কাঁধে তুলে স্লোগানের সময় ভিড়ের মধ্যে চড়-থাপ্পড় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা “পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন” ৫৪ জেলার পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক-আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের আশঙ্কা পঞ্চম সন্তানের প্রত্যাশায় নেইমার, বাড়ছে বিশ্বকাপে না ফেরার আশঙ্কা আগামী তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে: আশিক চৌধুরী “ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা, গ্রুপ পর্বেই নেই নেইমার” লন্ডনে এমপি হাসনাতের অনুষ্ঠানে ডিম নিক্ষেপ, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩ ২০০ ম্যাচের মহাকাব্যের দ্বারপ্রান্তে মেসি, গড়তে যাচ্ছেন নতুন ইতিহাস

নাচ-গান করতেন বলে নারীর দাফনে বাধা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গায় এক নারীর মরদেহ দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টা দাফন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাতে দাফন সম্পন্ন হয়।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারীর মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে দাফন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ নিজ বাড়ি দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হয়।

 

তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে আপত্তি জানান কিছু বাসিন্দা।

 

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাত ১০টার দিকে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তারেক রহমান আসলেও কাজ হবে না’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নাচ-গান করতেন বলে নারীর দাফনে বাধা

আপডেট সময় ০১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গায় এক নারীর মরদেহ দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টা দাফন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাতে দাফন সম্পন্ন হয়।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারীর মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে দাফন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ নিজ বাড়ি দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হয়।

 

তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে আপত্তি জানান কিছু বাসিন্দা।

 

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাত ১০টার দিকে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।