ঢাকা , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানে কঠোর হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান সৌদি আরবের তেলের কোনো সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী স্ত্রী ‘ফিলিস্তিনের পক্ষে’ কাজ করায় যুক্তরাষ্ট্রে তোপের মুখে মেয়র মামদানি পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, সাফ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহস থাকলে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠিয়ে দেখাক: আইআরজিসি যুদ্ধের ভালো খবর দেখাও, নয়তো লাইসেন্স বাতিল: ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি শক্তিশালী ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করল ইরান ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার: ট্রাম্প

ফিরছেন না গণঅধিকারে, বিএনপিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাশেদ খানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন করে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন রাশেদ খান। দীর্ঘ সময় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গণঅধিকার পরিষদ ছাড়ার পর তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখন মূলত বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। ঝিনাইদহ (কালীগঞ্জ ও সদর অঞ্চল অংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন রাশেদ খান। যদিও ভোটের ফলাফলে বিজয়ী হননি, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, আর গণঅধিকার পরিষদে ফিরে যাবেন না। নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করব না। আমি বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাই। এটিই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।তিনি যোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, জয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীএর প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব। তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে আসনটি দখল করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পান। রাশেদ খান নিজে পান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।  রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপি যৌথভাবে আসন বণ্টন এবং সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে গণঅধিকার পরিষদে থাকাকালীন সময়ে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনেকাংশে মিলিত, তাই বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এখন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ে, ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান রাশেদ খান। এটি স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ৪ আসনটি তাকে দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাদের মধ্যে একাংশ প্রতিবাদ মিছিলও করেন। এ প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, এবং যারা সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তারা ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত। রাশেদ খান আরও বলেন, নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থন তার সঙ্গে ছিল। যদিও তিনি এখনও বিএনপির কোনো কমিটিতে নিয়মিত পদে নেই, তবুও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করার জন্য তার যে কোনো জায়গায় কার্যক্রম চালানোর অধিকার আছে। নিজ জেলা ঝিনাইদহের পাশাপাশি দেশের অন্য অঞ্চলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে চান।

রাজনৈতিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত আদর্শ ও উদ্দেশ্যও যুক্ত রয়েছে। রাশেদ খান স্পষ্ট করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক থাকলেও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। এটি তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কৌশলের অংশ, যা জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান দৃঢ় করতে সাহায্য করবে। ফলে দেখা যাচ্ছে, ঝিনাইদহ৪ আসনের ফলাফলের পরেও রাশেদ খানের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরও জানান, তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে। গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পর্কের সুসম্পর্ক থাকলেও দলটির কর্মকাণ্ডে তিনি আর অংশগ্রহণ করবেন না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে কঠোর হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান সৌদি আরবের

ফিরছেন না গণঅধিকারে, বিএনপিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাশেদ খানের

আপডেট সময় ০২:০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন করে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন রাশেদ খান। দীর্ঘ সময় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গণঅধিকার পরিষদ ছাড়ার পর তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখন মূলত বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। ঝিনাইদহ (কালীগঞ্জ ও সদর অঞ্চল অংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন রাশেদ খান। যদিও ভোটের ফলাফলে বিজয়ী হননি, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, আর গণঅধিকার পরিষদে ফিরে যাবেন না। নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করব না। আমি বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাই। এটিই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।তিনি যোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, জয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীএর প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব। তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে আসনটি দখল করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পান। রাশেদ খান নিজে পান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।  রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপি যৌথভাবে আসন বণ্টন এবং সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে গণঅধিকার পরিষদে থাকাকালীন সময়ে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনেকাংশে মিলিত, তাই বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এখন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ে, ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান রাশেদ খান। এটি স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ৪ আসনটি তাকে দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাদের মধ্যে একাংশ প্রতিবাদ মিছিলও করেন। এ প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, এবং যারা সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তারা ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত। রাশেদ খান আরও বলেন, নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থন তার সঙ্গে ছিল। যদিও তিনি এখনও বিএনপির কোনো কমিটিতে নিয়মিত পদে নেই, তবুও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করার জন্য তার যে কোনো জায়গায় কার্যক্রম চালানোর অধিকার আছে। নিজ জেলা ঝিনাইদহের পাশাপাশি দেশের অন্য অঞ্চলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে চান।

রাজনৈতিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত আদর্শ ও উদ্দেশ্যও যুক্ত রয়েছে। রাশেদ খান স্পষ্ট করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক থাকলেও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। এটি তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কৌশলের অংশ, যা জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান দৃঢ় করতে সাহায্য করবে। ফলে দেখা যাচ্ছে, ঝিনাইদহ৪ আসনের ফলাফলের পরেও রাশেদ খানের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরও জানান, তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে। গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পর্কের সুসম্পর্ক থাকলেও দলটির কর্মকাণ্ডে তিনি আর অংশগ্রহণ করবেন না।