ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এমন জয়ের পর ক্রিকেট পাড়া রীতিমতো ‘টাইগার’ বন্দনায় মুগ্ধ। সাবেক থেকে বর্তমান ক্রিকেটার এমনকি বিশ্ব গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়।
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়কে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া। তার মতে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাম্প্রতিক উন্নতিরই প্রতিফলন।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে প্রথম টেস্টেই স্বাগতিকদের হারিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে পাওয়া ৯ উইকেটের এই জয়কে শুধু অঘটন হিসেবে দেখতে নারাজ আকাশ চোপড়া। তার মতে, বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল পেয়েছে।
আকাশ চোপড়া বলেন, ‘কখনো কখনো অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয়, কারণ চাইলে তো পাওয়া যায় না। এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের কাহিনী। তারা অস্ট্রেলিয়াকে (তাদের মাটিতে) হারিয়ে একটা পরিস্কার বার্তা দিয়েছে যে ‘আমরাও এই মঞ্চের যোগ্য।’ তোমরা আমাদের ২৩ বছরে একবারও আমন্ত্রণ জানাওনি। কিন্তু যখন আমাদের ডাকলে তখন তোমাদেরকে তোমাদেরই ঘরের মাঠে একদম ধুলোয় মিশিয়ে দিলাম। এটাই বাস্তবতা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০০৩ থেকে ২০২৬ সাল- মাঝে অনেক টেস্ট ম্যাচ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এমন একটা দেশ যারা টেস্ট ক্রিকেটকে অনেক বেশি দাম দেয়, ভালোবাসে এবং দাবি করে তারাই টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু তোমরা তো বাংলাদেশকে আমন্ত্রণই জানাও না। শুধু বাংলাদেশ নয়, আরও অনেক দেশ আছে যাদের তারা আমন্ত্রণ জানাতে চায় না। এজন্য বাংলাদেশের এই জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে পেস বোলিংয়ের উন্নতির কথা বলেছেন তিনি। গত কয়েক বছরে পেস বিভাগে যে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ, তার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করেন আকাশ।
বাংলাদেশের বর্তমান পেস আক্রমণে হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের মতো একাধিক বিকল্প রয়েছে। তার মতে, একসময় যেখানে কয়েকজন পেসারের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সেখানে বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ পেস আক্রমণ তৈরি করতে পেরেছে।
আকাশ চোপড়ার ভাষায়, পেস বোলিংয়ে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, অনুশীলন এবং মানসিকতার পরিবর্তনই বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তাই তাঁর কাছে হঠাৎ পাওয়া কোনো সাফল্য নয়; বরং কয়েক বছরের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ফল।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















