ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দিন, জুলাই সনদের সংস্কার এগিয়ে নিতে চান কি না: প্রধান উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:২০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “জুলাই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথযাত্রার একটি ঐতিহাসিক দলিল।” তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানাতে হবে—তারা জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামো এগিয়ে নিতে চান কি না।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, জনগণের ভোটই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে, প্রশাসন কোন কাঠামোয় পুনর্গঠিত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ কেমন রূপ নেবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, প্রশাসনিক জবাবদিহি, দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সমাজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার বাস্তবায়নে জনগণের সুস্পষ্ট মতামত অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক নেতৃত্ব বা একটি প্রশাসনের মাধ্যমে টেকসই হতে পারে না; জনগণের চূড়ান্ত সম্মতিই এখানে মূল ভিত্তি। সে কারণেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারদিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রমীভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোট, যার প্রভাব শতবর্ষব্যাপী হবে। তিনি সবাইকে অবশ্যই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। কিন্তু এতদিন তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে এবার প্রথমবারের মতো লাখো প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, যদিও কিছু প্রবাসী নানা জটিলতায় এবার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না, তবে এই ধারা এখানেই থেমে থাকবে না। ভবিষ্যতে সবাই এই ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দিন, জুলাই সনদের সংস্কার এগিয়ে নিতে চান কি না: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৮:২০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “জুলাই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথযাত্রার একটি ঐতিহাসিক দলিল।” তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানাতে হবে—তারা জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামো এগিয়ে নিতে চান কি না।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, জনগণের ভোটই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে, প্রশাসন কোন কাঠামোয় পুনর্গঠিত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ কেমন রূপ নেবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, প্রশাসনিক জবাবদিহি, দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সমাজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার বাস্তবায়নে জনগণের সুস্পষ্ট মতামত অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক নেতৃত্ব বা একটি প্রশাসনের মাধ্যমে টেকসই হতে পারে না; জনগণের চূড়ান্ত সম্মতিই এখানে মূল ভিত্তি। সে কারণেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারদিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রমীভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোট, যার প্রভাব শতবর্ষব্যাপী হবে। তিনি সবাইকে অবশ্যই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। কিন্তু এতদিন তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে এবার প্রথমবারের মতো লাখো প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, যদিও কিছু প্রবাসী নানা জটিলতায় এবার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না, তবে এই ধারা এখানেই থেমে থাকবে না। ভবিষ্যতে সবাই এই ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।