ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল বিসিবির টাকা এসেছে ক্রিকেটারদের শ্রমে ঘামে: মেহেদী মিরাজ

বুদ্ধিজীবীদের আল-বদর, আল-শামস নয় পার্শ্ববর্তী দেশের লোকেরা হত্যা করেছে: বিএনপি নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

এবার মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের আল-বদর, আল-শামস নয় পার্শ্ববর্তী দেশের লোকেরা হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বলেছেন, টিপুর বক্তব্যের সঙ্গে আমাদের দল ও আমি একমত নই। গত রোববার নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার বিএনপি নেতার এ বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে শুরু হয় সমালোচনা।

‎নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে টিপুর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ তাৎক্ষণিক কেউ করেননি। তবে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সভায় বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাঁর বক্তব্যে বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য ‘একটি রাজনৈতিক দলকে’ দায়ী করা হলেও তা সঠিক ইতিহাস নয় দাবি করেন। তিনি ওই রাজনৈতিক দলটিকে বর্তমান সরকারের কাছে ‘ইতিহাস সংশোধনের দাবি’ জানানোর আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, ‘আজকেও পত্রিকা পড়লাম।

পত্রিকার পাতা, সম্পাদকীয় কলাম ও বিভিন্ন জায়গায় লিখেছে যে, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে আল-বদর, আল-শামস। আমাদের ইসলামিক রাজনৈতিক দলের নেতারা আছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বিএনপিরে দোষারোপ করে (আপনারা) অনেক কথা বলেন। ‎যখন আপনাদের দোষারোপ করে ইতিহাস লেখা হয়, আপনারা কেন সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন না?’

তিনি দাবি করেন, ‘১৪ ডিসেম্বর তো কোনো আল-বদর, আল-শামস আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেন নাই। সেদিন পার্শ্ববর্তী কোনো এক দেশের লোকেরা, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, সেটাকে টার্গেট করে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল।’জামায়াতকে উদ্দেশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘ইসলামিক দলগুলোকে টার্গেট করে বিভিন্ন বাম সংগঠন, বাম-মনা সাংবাদিক এখনও কথা বলেন, আর ইতিহাসের পাতায় আপনাদের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। কেন আপনারা এটা সংশোধন করেন না, কেন আপনারা দাবি জানান না? শুধু কোনো জায়গায় স্টেজে উঠলেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে বলেন, কিন্তু কোনোটা প্রমাণ করতে পারেন না। অতএব রাজনৈতিক ইসলামিক দল, এখানে কাদের বলছি, উনারা ভালো করে বুঝতেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসটাকে সঠিক করে তুলে ধরার জন্য আপনারা সরকারের কাছে দাবি জানান। আগামী প্রজন্মের কাছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে আপনারাই শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত থাকবেন। অতএব ইতিহাস সঠিক যেন লেখা হয়, কারা হত্যা করেছে, সেটা যেন লেখা হয়।’ সভায় বক্তব্যে জামায়াতের মহানগর কমিটির আমির মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, ‘আগামী সরকারের কাছে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রচনার দাবি জানাই।’

এদিকে টিপুর বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি টিপুর ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর সঙ্গে আমি বা আমার দল কোনোভাবেই একমত নই। তাঁর বক্তব্যের দায়দায়িত্ব আমাদের নয়।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম কামাল বলেন, ‘পাকিস্তান তাদের এ দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল বদর, আল সামসের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে বলেই জানি। টিপু যে ধরনের কথা বলেছেন, সে ধরনের কথাবার্তা জামায়াতে ইসলামী বলে। টিপু কেন জামায়াতে ইসলামের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কথা বলছেন, এটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নূরে আলম বলেন, ‘উনি কি সুস্থ মস্তিষ্কে থাকে, না অসুস্থ মস্তিষ্কে থাকে এটা আমি জানি না। তাই তাঁর কথার ওপর ভিত্তি করে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।’ নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিএনপির মতো দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি ইতিহাস জানেন না এটা খুব দুঃখজনক। তাঁর দলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন। তাদের কাছে তাঁর ইতিহাসের পাঠ নেওয়া দরকার।’ গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘যারা আজ এই বিতর্ক তৈরি করছে, হয় তাদের ইতিহাস-জ্ঞান সীমিত, নয়তো তারা সচেতনভাবে দেশ-বিরোধীদের পক্ষাবলম্বন করছে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা

বুদ্ধিজীবীদের আল-বদর, আল-শামস নয় পার্শ্ববর্তী দেশের লোকেরা হত্যা করেছে: বিএনপি নেতা

আপডেট সময় ০৯:৪০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের আল-বদর, আল-শামস নয় পার্শ্ববর্তী দেশের লোকেরা হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বলেছেন, টিপুর বক্তব্যের সঙ্গে আমাদের দল ও আমি একমত নই। গত রোববার নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার বিএনপি নেতার এ বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে শুরু হয় সমালোচনা।

‎নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে টিপুর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ তাৎক্ষণিক কেউ করেননি। তবে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সভায় বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাঁর বক্তব্যে বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য ‘একটি রাজনৈতিক দলকে’ দায়ী করা হলেও তা সঠিক ইতিহাস নয় দাবি করেন। তিনি ওই রাজনৈতিক দলটিকে বর্তমান সরকারের কাছে ‘ইতিহাস সংশোধনের দাবি’ জানানোর আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, ‘আজকেও পত্রিকা পড়লাম।

পত্রিকার পাতা, সম্পাদকীয় কলাম ও বিভিন্ন জায়গায় লিখেছে যে, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে আল-বদর, আল-শামস। আমাদের ইসলামিক রাজনৈতিক দলের নেতারা আছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বিএনপিরে দোষারোপ করে (আপনারা) অনেক কথা বলেন। ‎যখন আপনাদের দোষারোপ করে ইতিহাস লেখা হয়, আপনারা কেন সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন না?’

তিনি দাবি করেন, ‘১৪ ডিসেম্বর তো কোনো আল-বদর, আল-শামস আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেন নাই। সেদিন পার্শ্ববর্তী কোনো এক দেশের লোকেরা, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, সেটাকে টার্গেট করে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল।’জামায়াতকে উদ্দেশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘ইসলামিক দলগুলোকে টার্গেট করে বিভিন্ন বাম সংগঠন, বাম-মনা সাংবাদিক এখনও কথা বলেন, আর ইতিহাসের পাতায় আপনাদের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। কেন আপনারা এটা সংশোধন করেন না, কেন আপনারা দাবি জানান না? শুধু কোনো জায়গায় স্টেজে উঠলেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে বলেন, কিন্তু কোনোটা প্রমাণ করতে পারেন না। অতএব রাজনৈতিক ইসলামিক দল, এখানে কাদের বলছি, উনারা ভালো করে বুঝতেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসটাকে সঠিক করে তুলে ধরার জন্য আপনারা সরকারের কাছে দাবি জানান। আগামী প্রজন্মের কাছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে আপনারাই শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত থাকবেন। অতএব ইতিহাস সঠিক যেন লেখা হয়, কারা হত্যা করেছে, সেটা যেন লেখা হয়।’ সভায় বক্তব্যে জামায়াতের মহানগর কমিটির আমির মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, ‘আগামী সরকারের কাছে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রচনার দাবি জানাই।’

এদিকে টিপুর বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি টিপুর ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর সঙ্গে আমি বা আমার দল কোনোভাবেই একমত নই। তাঁর বক্তব্যের দায়দায়িত্ব আমাদের নয়।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম কামাল বলেন, ‘পাকিস্তান তাদের এ দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল বদর, আল সামসের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে বলেই জানি। টিপু যে ধরনের কথা বলেছেন, সে ধরনের কথাবার্তা জামায়াতে ইসলামী বলে। টিপু কেন জামায়াতে ইসলামের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কথা বলছেন, এটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নূরে আলম বলেন, ‘উনি কি সুস্থ মস্তিষ্কে থাকে, না অসুস্থ মস্তিষ্কে থাকে এটা আমি জানি না। তাই তাঁর কথার ওপর ভিত্তি করে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।’ নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিএনপির মতো দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি ইতিহাস জানেন না এটা খুব দুঃখজনক। তাঁর দলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন। তাদের কাছে তাঁর ইতিহাসের পাঠ নেওয়া দরকার।’ গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘যারা আজ এই বিতর্ক তৈরি করছে, হয় তাদের ইতিহাস-জ্ঞান সীমিত, নয়তো তারা সচেতনভাবে দেশ-বিরোধীদের পক্ষাবলম্বন করছে।’