ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
“ইরানের বেশিরভাগ মানুষের নাম মোহাম্মদ”— ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৪ বারের মতো পেছাল “ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে ইউনূস সরকার”- বরিশালে বিক্ষোভে মাসুমা হাদি মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে পত্রিকায় গ্রেপ্তারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ আদালতের অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে এনবিআরের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন ডুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তির দাবি ছাত্রদলের এবার জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা একদল শিক্ষার্থীর আমপাতা জোড়া জোড়া’ নিয়ে এলেন কনা আজ সন্ধ্যায় প্রথম দফায় কারিনা কায়সারের জানাজা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর হাত মামুনুল হকের মাথায়, হেফাজতে ঐক্যের বার্তা

অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে এনবিআরের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ না করার দাবিতে National Board of Revenue-এর চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেন বাইকাররা। জানা গেছে, আগামী বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি এনবিআরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১১১-১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে দেশের লাখো মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাইকারদের পক্ষে বক্তব্য দেন এ কে এম ইমন। তিনি বলেন, “ভারতে যে বাইকের দাম ১ লাখ টাকা, বাংলাদেশে সেটি কিনতে হয় প্রায় ৩ লাখ টাকায়। বাইক এখন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বাহন। রাইড শেয়ার বা পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অনেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করেন। নতুন কর আরোপ হলে তাদের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাইকাররা বলেন, মোটরসাইকেল এখন শুধু শখের যান নয়; বরং অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রাইড শেয়ার চালকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

নারী বাইকাররাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের একজন লিমা শিমু বলেন, গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক নারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ নারীদের চলাচলে নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

বাইকারদের দাবি, বর্তমানে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

তারা মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিবহন হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মুর্শেদ আলম বলেন, “এখন জ্বালানি কেনাই কঠিন হয়ে গেছে। বাইক রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেড়েছে। নতুন কর আরোপ হলে অনেকেই হয়তো বাইক বিক্রি করতে বাধ্য হবেন।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

“ইরানের বেশিরভাগ মানুষের নাম মোহাম্মদ”— ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে এনবিআরের সামনে বাইকারদের মানববন্ধন

আপডেট সময় ০২:৫২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ না করার দাবিতে National Board of Revenue-এর চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেন বাইকাররা। জানা গেছে, আগামী বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি এনবিআরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১১১-১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে দেশের লাখো মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাইকারদের পক্ষে বক্তব্য দেন এ কে এম ইমন। তিনি বলেন, “ভারতে যে বাইকের দাম ১ লাখ টাকা, বাংলাদেশে সেটি কিনতে হয় প্রায় ৩ লাখ টাকায়। বাইক এখন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বাহন। রাইড শেয়ার বা পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অনেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করেন। নতুন কর আরোপ হলে তাদের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাইকাররা বলেন, মোটরসাইকেল এখন শুধু শখের যান নয়; বরং অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রাইড শেয়ার চালকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

নারী বাইকাররাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের একজন লিমা শিমু বলেন, গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক নারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ নারীদের চলাচলে নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

বাইকারদের দাবি, বর্তমানে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

তারা মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিবহন হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মুর্শেদ আলম বলেন, “এখন জ্বালানি কেনাই কঠিন হয়ে গেছে। বাইক রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেড়েছে। নতুন কর আরোপ হলে অনেকেই হয়তো বাইক বিক্রি করতে বাধ্য হবেন।”