২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নতুন কূটনৈতিক বিতর্কে জড়াল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থাকলেও ইরান জাতীয় দলকে সেখানে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কঠোর শর্ত অনুযায়ী, ম্যাচের দিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে তারা, আর ম্যাচ শেষেই দেশটি ছাড়তে হবে তাদের।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দলটির ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে ইরানের বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল অ্যারিজোনার টুসনে। পরে সেই পরিকল্পনা বদলে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ঘাঁটি করার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান।
মেক্সিকোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফজল পাসানদিদেহ পরিস্থিতির কঠোরতা বোঝাতে বলেছেন, ইরান দল সকালে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে এবং একই দিন দেশ ছাড়তে হবে। অর্থাৎ ম্যাচের আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা, ম্যাচের পর বিশ্রাম নেওয়া বা স্বাভাবিক টুর্নামেন্ট সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকছে না তাদের।
এতে ইরান দলের কোচিং স্টাফের সামনে তৈরি হয়েছে বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি ম্যাচের আগে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া, ম্যাচ খেলা, তারপর আবার মেক্সিকোয় ফিরে আসা সহজ কাজ নয়। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার, অনুশীলন ও মানসিক প্রস্তুতি বড় বিষয়, সেখানে এমন যাতায়াত দলটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান দলের খেলোয়াড় ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিশ্বকাপ প্রতিনিধি দলের আড়ালে অননুমোদিত বা নিরাপত্তা–ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই নজরদারি।
এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। কারণ বিশ্বকাপের মতো ক্রীড়া আয়োজনে সাধারণত দলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ভ্রমণ ও থাকার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত অভিযোগ পুরো বিষয়টিকে শুধু ফুটবলীয় রাখেনি, কূটনৈতিক প্রশ্নেও পরিণত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকো ইরানের বিকল্প আশ্রয়স্থল হিসেবে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাত কাটানোর অনুমতি না থাকায় ইরান দল গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোকেই বেস হিসেবে ব্যবহার করবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, ইরান দল মেক্সিকোতে থাকতে চাইলে তাঁদের আপত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান দলকে রাত কাটাতে না দেয়, তবু যেহেতু তাদের ম্যাচ সেখানে, মেক্সিকো থাকার জায়গা দিতে প্রস্তুত।
ইরান এর আগে ফিফার কাছে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। ফলে এখন সীমান্ত পেরিয়ে ম্যাচ খেলার অস্বাভাবিক বাস্তবতার মুখে পড়েছে ইরান।
গ্রুপ জি-তে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। প্রথম ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ক্যালিফোর্নিয়াতেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ সিয়াটলে, প্রতিপক্ষ মিসর। তিনটি ম্যাচের জন্যই ইরানকে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের জন্য এই বিশ্বকাপ এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ। দলটি এখনো কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। এবারের দল নিয়ে সেই স্বপ্ন দেখছে টিম মেল্লি। কিন্তু মাঠে নামার আগেই ভ্রমণ, ভিসা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন তাদের প্রস্তুতিকে জটিল করে তুলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















