ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাসিনা অসুস্থতার কারণে তাকে সংবাদ সম্মেলন দেখা যায় না: আসিফ নজরুল পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার নতুন পোশাক আইন করছে ভারত, বিপাকে মুসলিমরা ক্ষমতায় না যেতেই মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে: ছাত্রদল

এবার ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ বানাচ্ছে চীন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

এবার পারমাণবিক ফিউশন শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি করেছে চীন। দেশটিকৃত্রিম সূর্যনামে পরিচিত ফিউশন প্রকল্পের জন্য রেকর্ড ৫৮২ টন ওজনের একটি অতিপরিবাহী চৌম্বক তৈরি ও পরীক্ষায় সফল হয়েছে। ফর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেফেইয়ের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই বিশাল ম্যাগনেটটি তৈরি করেছে। এটি কোনো ফিউশন রিয়্যাক্টরের জন্য নির্মিত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ম্যাগনেট।ডিআকৃতির এই কয়েলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার।

চীনেরবার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাকরিয়্যাক্টরে ম্যাগনেটটি ব্যবহার করা হবে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে যে প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়, সেই পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়া পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে এই রিয়্যাক্টর। ফিউশন প্রক্রিয়া চালাতে প্লাজমাকে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে হবে। এই তাপমাত্রা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি। কোনো প্রচলিত পদার্থ এমন তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। তাই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে প্লাজমাকে রিয়্যাক্টরের দেয়াল থেকে দূরে ভাসমান অবস্থায় রাখা হবে।

এ জন্য রিয়্যাক্টরটিকে ঘিরে মোট ১৬টি এ ধরনের কয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশাল এই চৌম্বকগুলো প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রিয়্যাক্টরের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এরপর ২০৩০ সালের দিকে ফিউশনভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিউশন শক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকিও কম হতে পারে।

সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের পর চীন এখন ফিউশন শক্তির মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতেও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার ও ভবিষ্যৎ শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকায় ফিউশন শক্তির দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নজর দিচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি উৎপাদন এখনো বড় বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সে দিক থেকে চীনের ৫৮২ টনের এই অতিপরিবাহী ম্যাগনেটের সফল নির্মাণ ও পরীক্ষা ফিউশন শক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনা অসুস্থতার কারণে তাকে সংবাদ সম্মেলন দেখা যায় না: আসিফ নজরুল

এবার ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ বানাচ্ছে চীন

আপডেট সময় ০৪:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এবার পারমাণবিক ফিউশন শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি করেছে চীন। দেশটিকৃত্রিম সূর্যনামে পরিচিত ফিউশন প্রকল্পের জন্য রেকর্ড ৫৮২ টন ওজনের একটি অতিপরিবাহী চৌম্বক তৈরি ও পরীক্ষায় সফল হয়েছে। ফর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেফেইয়ের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই বিশাল ম্যাগনেটটি তৈরি করেছে। এটি কোনো ফিউশন রিয়্যাক্টরের জন্য নির্মিত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ম্যাগনেট।ডিআকৃতির এই কয়েলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার।

চীনেরবার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাকরিয়্যাক্টরে ম্যাগনেটটি ব্যবহার করা হবে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে যে প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়, সেই পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়া পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে এই রিয়্যাক্টর। ফিউশন প্রক্রিয়া চালাতে প্লাজমাকে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে হবে। এই তাপমাত্রা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি। কোনো প্রচলিত পদার্থ এমন তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। তাই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে প্লাজমাকে রিয়্যাক্টরের দেয়াল থেকে দূরে ভাসমান অবস্থায় রাখা হবে।

এ জন্য রিয়্যাক্টরটিকে ঘিরে মোট ১৬টি এ ধরনের কয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশাল এই চৌম্বকগুলো প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রিয়্যাক্টরের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এরপর ২০৩০ সালের দিকে ফিউশনভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিউশন শক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকিও কম হতে পারে।

সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের পর চীন এখন ফিউশন শক্তির মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতেও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার ও ভবিষ্যৎ শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকায় ফিউশন শক্তির দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নজর দিচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি উৎপাদন এখনো বড় বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সে দিক থেকে চীনের ৫৮২ টনের এই অতিপরিবাহী ম্যাগনেটের সফল নির্মাণ ও পরীক্ষা ফিউশন শক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি